পৃথিবীর সবদেশই প্রতিনিয়ত তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতিসাধন করে চলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন আকাশে তাদের পঞ্চম এবং ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলিকে ক্রমাগত উন্নত করছে। কিন্তু জানেন কী বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত এবং শক্তিশালী যুদ্ধবিমান কোনটি? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৪৭, চিনের জে-৩৫ না রাশিয়ার এসইউ-৫৭? উত্তর একটাই, ‘এফ-৪৭’ হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। বর্তমানে মার্কিন বায়ুসেনা ‘এফ-২২ র্যাফটার’ নামের দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট একটি লড়াকু জেট ব্যবহার করে। এরই উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত এই ‘এফ-৪৭।’
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর ষষ্ঠ প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার এফ-৪৭ এখন পর্যন্ত তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে ‘বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান।’ তিনি এ মন্তব্যের সঙ্গে এফ-৪৭-এর নামকরণ নিয়ে রসিকতাও করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা এর নাম রেখেছে ৪৭। ভাবছি, কেন নামটা ৪৭ রাখা হয়েছে। তবে যদি আমার ভালো না লাগে, আমি এই ৪৭ সরিয়ে দেব।’
এফ-৪৭ যুদ্ধবিমানের বৈশিষ্ট্য
১. স্টেলথ প্রযুক্তি: রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা।
২. উন্নত সেন্সর সিস্টেম: লক্ষ্য দ্রুত শনাক্ত ও আঘাতের ক্ষমতা বৃদ্ধি।
৩. ক্যানার্ড নকশা: ককপিটের সামনে ছোট ডানা স্থিতিশীলতা বাড়ায় এবং নিখুঁত বাঁক ও কৌশলগত ম্যানুভার নিশ্চিত করে।
৪. দূরপাল্লার আক্রমণ ও ডগফাইট: ক্ষেপণাস্ত্র ও কাছাকাছি আকাশযুদ্ধে কার্যকর।
৫. ড্রোন সমন্বয়: ‘কলাবরেটিভ কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ হিসেবে স্বয়ংক্রিয় ড্রোনের সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম।
৬. বোয়িং নকশার প্রভাব: ওয়াইএফ-১১৮জি বার্ড অব প্রে’র কিছু স্থিতিশীলতার জন্য কৌণিক ডানা এবং উন্নত বাঁকানো নাক অন্তর্ভুক্ত।
৭. এফ-৪৭ যুদ্ধবিমান দূরপাল্লার হামলা, দ্রুত মোতায়েন যোগ্য এবং বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অভিযোজিত হওয়ার ক্ষমতা রাখে।

মার্কিন বিমানবাহিনীতে এফ-৪৭ যুদ্ধবিমান
২০২৫ সালের মার্চে বোয়িংকে এফ-৪৭ যুদ্ধবিমান নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মার্কিন বিমানবাহিনী অন্তত ১৮৫টি এফ-৪৭ যুদ্ধবিমান তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে। প্রথম ব্যাচ চলতি দশকের শেষের দিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হবে। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষে আকাশে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে এ বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।