রাত পোহালেই আসছেন মা সরস্বতী। সেজন্য সেজে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের স্কুল, কলেজ-সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কোনও স্কুলে দেবী সরস্বতীর চার হাত আছে। অর্থাৎ চতুর্ভূজা দেবী সরস্বতীর আরাধানা করা হবে। কোথাও আবার সরস্বতী পুজোর ভাবনায় অভিনবত্বের ছোঁয়া দেখা গিয়েছে।
অভিনবত্বের ছোঁয়া অধ্যাপকের বাড়ির সরস্বতী পুজোয়
প্রতিবারের মতো এবারও বোটানির অধ্যাপক ঋত্বিক আচার্যের বাড়ির সরস্বতী পুজোয় অভিনবত্বের ছোঁয়া আছে। এবারের ভাবনা হল ‘ফেলে আসা ছেলেবেলা স্বপ্ন রঙিন’। সেই ভাবনা ফুটিয়ে তুলেছে ছন্নছাড়া। প্রতিমা শিল্পী হলেন তিনকড়ি পোদ্দার। আলোশিল্পী হলেন চন্দ্রনাথ ঘোষ।
পড়ুয়াদের শিল্পকলায় সেজে উঠেছে যাদবপুর বিদ্যাপীঠ
প্রতিবারই ধুমধাম করে সরস্বতী পুজো হয় কলকাতার যাদবপুর বিদ্যাপীঠে। অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে মায়ের আরাধনায় মেতে ওঠেন পড়ুয়ারা। এবারও সেই ধারায় ছেদ পড়েনি। পুজোর আগেরদিন স্কুল সাজিয়ে তুলেছে। ফুটিয়ে তুলেছে শিল্পকলা। স্কুলের ঢোকার মুখেই অপূর্ব সুন্দর আল্পনা আঁকা হয়েছে। আবার নারীদের সুরক্ষা নিয়েও বার্তা দেওয়া হয়েছে সরস্বতী পুজোর মধ্যেই। একটি পোস্টারে লেখা হয়েছে, ‘নারীদের সম্মান শুধু নারী দিবসে না হয়ে সারাজীবনের জন্য হোক।’

অসাধারণ প্রতিমা ও মণ্ডপসজ্জা নবদ্বীপ হিন্দু স্কুলে
সরস্বতী পুজোর জন্য সেজে উঠেছে নবদ্বীপ হিন্দু স্কুল। যাঁরা ভাবনায় সরস্বতী পুজো মণ্ডপ সাজিয়ে তোলা হয়েছে, সেই শিক্ষক সৈকত কুণ্ডু জানিয়েছেন যে বাংলার ঐতিহ্যবাহী আল্পনা শিল্প ফুটে উঠেছে। কৃষ্ণনগর থেকে আনা হয়েছে প্রতিমা। দেবীর চারটি হাত রয়েছে। সাধারণত পশ্চিমবঙ্গে দেবী সরস্বতীর দুটি হাত থাকে।
সেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করে নবদ্বীপ হিন্দু স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জগন্নাথ গুইন বলেছেন, ‘শাস্ত্র অনুযায়ী মা সরস্বতী চতুর্ভুজা। চার হাতে তিনি সাধারণত বীণা, পুস্তক, জপমালা ও বর/অভয় মুদ্রা ধারণ করেন। এই রূপই পুরাণ ও ধ্যানশ্লোকে বর্ণিত।, আমরা সরল রূপে দু হাতের মায়ের পুজো করি যা অধিক প্রচলিত।’