ইডির পর এবার কলকাতায় তৎপরতা বাড়াল সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। গত বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন ও তাঁর অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। আর এক সপ্তাহ পর এবার ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলার তদন্তের সূত্রে বৃহস্পতিবার শহরের পাঁচটি জায়গায় একযোগে ‘কম্বিং সার্চ’ চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
জানা যাচ্ছে, এদিন কলকাতা-নিউটাউন-সহ পাঁচটি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি আধিকারিকরা। এই অভিযানে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়। পাঁচটি ঠিকানার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে আলিপুর নিউ রোডের প্লট নম্বর ২৮-এ অবস্থিত একটি বিলাসবহুল বহুতল আবাসন। ‘গণেশ কোর্ট’ নামে ওই আবাসনের পাঁচতলায় এক ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন সিবিআই আধিকারিকরা। বাইরে ছয় জন আধাসেনা জওয়ান মোতায়েন করা হয়, ভিতরেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, আলিপুর নিউ রোডে নিশা কেজরিওয়াল-এর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন গোয়েন্দারা।
মামলার সূত্রপাত
এই মামলার সূত্রপাত ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর দায়ের হওয়া একটি লিখিত অভিযোগ থেকে। অভিযোগটি করেছিলেন ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের (তৎকালীন এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক) ঝাড়খণ্ডের রাঁচি শাখার স্ট্রেসড অ্যাসেটস ম্যানেজমেন্ট ভার্টিক্যালের চিফ ম্যানেজার ও ব্রাঞ্চ হেড সুরেশ চন্দ্র চৌহান। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে রাজেশ্বরী আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর সুমিত কেজরিওয়াল ও আশা কেজরিওয়াল, গ্যারান্টার প্রভাস কুমার মুখোপাধ্যায় এবং আরও কয়েক জন অজ্ঞাত সরকারি ও বেসরকারি ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যাঙ্কের সঙ্গে প্রতারণা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, জাল নথির ভিত্তিতে ঋণ নিয়ে এবং সেই নথিগুলিকে বৈধ হিসেবে ব্যবহার করে জামশেদপুরের মেইন ব্রাঞ্চ থেকে প্রায় ৫৬১.৭১ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। তদন্তে হিসাব জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ, কোম্পানি আইনের নিয়ম না মানার মতো একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে।

এই ঘটনায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০-বি ধারা-সহ ৪০৯, ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি, দুর্নীতি দমন আইন, ১৯৮৮-র ১৩(২) এবং ১৩(১)(ডি) ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় সংস্থা ও তার দুই ডিরেক্টরের পাশাপাশি একজন ভুয়ো পরিচয়ধারী এবং আরও অজ্ঞাত সরকারি ও বেসরকারি ব্যক্তির নাম রয়েছে। ডিএসপিই আইন অনুযায়ী কেন্দ্র ও ঝাড়খণ্ড সরকারের অনুমোদন নিয়েই এই তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে রাঁচির সিবিআইয়ের এসিবি শাখার ডিএসপি আর এস সোলাঙ্কিকে। এই মামলার সূত্র ধরেই কলকাতায় অভিযান চালানো হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে। তল্লাশিতে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য মিলতে পারে বলেই মনে করছে সিবিআই। শহরে পরপর কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও নজরদারি বেড়েছে।
বস্তুত, গত বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের তল্লাশিতে গিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। প্রথমে তাঁরা যান কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। তবে খানিকবাদে সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর একটি সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। ইডি আধিকারিকরা অভিযোগ করে জানান যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তে বাধা দিয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি, ভোটের সব কৌশল চুরি করে নিয়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির গোয়েন্দারা।