পর্দায় তিনি ‘চ্যাম্প’, কখনও ‘খোকাবাবু’, আবার কখনও ‘প্রধান’। কিন্তু দিনশেষে তিনি সেই ছেলেটিই, যার পৃথিবী আবর্তিত হয় মাকে কেন্দ্র করে। আজ টলিউড সুপারস্টার দেব-এর মা মৌসুমি অধিকারী-র ৬০তম জন্মদিন। ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাত ছুঁতেই মা-কে আদুরে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন দেব।অভিনেতা লেখেন, ‘মা জয়েনিং সিনিয়র সিটিজেন ক্লাব। শুভ ৬০তম জন্মদিন মা’। মায়ের সঙ্গে কাটানো একগুচ্ছ মিষ্টি মুহূর্ত উঠে এসেছে ফেসেবুকের পাতায়। কখন ছবির লুকে, কখনও একদম বাড়ির ছেলে হয়ে ধরা দিয়েছেন দেব। কিন্তু সব ছবিতেই মায়ের ভালোবাসা একরকম।
ছেলে টলিউডের অন্য়তম সফল নায়ক। তিনবারের জয়ী সাংসদ। ৪৩ বছর বয়সেও বাবা-মা’র সঙ্গেই থাকেন নায়ক। মা-ই দেবের গোটা জগত। একটা সময় তাঁদের অবস্থা স্বচ্ছল ছিল না। মুম্বইয়ে ক্যাটারিং-এর বিজনেস ছিল দেবের বাবা গুরুপদ অধিকারীর। মেদিনীপুরের ভূমি ছেড়ে দীর্ঘদিন সেখানেই স্বামীর সঙ্গ দিয়েছেন। প্রাণের চেয়ে প্রিয় ছেলেকেও একটা সময় ছেড়ে থাকতে হয়েছে মৌসুমী দেবীকে।
ছেলেবেলায় দাসপুরের মামার বাড়িতে থাকতেন দেব। পরে মুম্বইয়ে যান বাবা-মা’র কাছে। মুম্বইয়ের ক্যাটারিং ব্যবসা থেকে টলিউডের সিংহাসন— দেবের লড়াইয়ের পথটা সহজ ছিল না। সংগ্রামের দিনগুলোতে মা মৌসুমি দেবীই ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। জানেন কি টলিউডে নিজের প্রথম ছবির পারিশ্রমিক পাওয়ার পর দেব কোনো দামী গ্যাজেট বা বিলাসিতা নয়, বরং দৌড়ে গিয়েছিলেন মায়ের জন্য একটি সুন্দর শাড়ি কিনতে। সেই শুরু। আজও কয়েক কোটি টাকার মালিক হওয়ার পরেও, নিজের প্রতিটি ছবির উপার্জনের প্রথম ভাগটা তুলে রাখেন মায়ের শাড়ির জন্য।
মায়ের জন্মদিনটি অধিকার পরিবারে বেশ ধুমধাম করেই পালিত হচ্ছে। বাবার (গুরুপদ অধিকারী) সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মা যেভাবে অভাবের দিনেও দেব ও তাঁর বোন দীপালিকে আগলে রেখেছেন, তা দেব বারবার কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। আজকের এইদিনে মায়ের জন্য় কোনও স্পেশ্য়াল উপহার দেব নিশ্চিতভাবেই বেছে রেখেছেন। যদিও ছেলের সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো দেখাই বোধহয় মৌসুমি দেবীর কাছে শ্রেষ্ঠ উপহার। দেবের এই মাতৃভক্তি তাঁর অনুরাগীদের কাছেও এক বড় উদাহরণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সকাল থেকেই শুভেচ্ছা বার্তার বন্যা। ভক্তরা বলছেন, ‘পর্দায় হিরো তো অনেকেই হয়, কিন্তু পর্দার বাইরে এমন আদর্শ ছেলে হওয়াই আসল হিরোর পরিচয়।’
