মার্কিন হামলার জল্পনার মধ্যেই ইঙ্গিতবাহী বার্তা নির্বাসিত যুবরাজের

Spread the love

পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে ইরানে। এই আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আর এই বৈঠকটি এমন সময় হয়েছে, যখন ইরানে আন্দোলনকারীদের মৃত্যুর সংখ্যা দুই হাজার পার হতেই ট্রাম্প যুবদের বলেছেন, তারা যেন আন্দোলন না থামায়, সাহায্য আসছে।

শাসক বিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই নিজেদের আকাশপথ সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ইরানের এয়ারস্পেস বন্ধ হওয়ায় বহু বিমান চলাচলই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বুধবার বেশি রাতের দিকে প্রথমে প্রায় দু’ঘণ্টার জন্য আকাশসীমা বন্ধ করেছিল ইরান। পরে তা আরও বৃদ্ধি করা হয়। যদিও ইরানে যাতায়াতের জন্য যে আন্তর্জাতিক বিমানগুলির নির্দিষ্ট অনুমতি রয়েছে, সেগুলি ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে। কেন হঠাৎ আকাশসীমা বন্ধ করা হল, তার ব্যাখ্যা দেয়নি ইরান প্রশাসন। তবে কী মার্কিন হামলার আশঙ্কাতেই এই সিদ্ধান্ত? সূত্রের খবর, বিমানে হামলার আশঙ্কায় আকাশপথ বন্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র জরুরি আন্তর্জাতিক বিমানকে অনুমতিসাপেক্ষে ওড়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যেই মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সঙ্গে ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির বৈঠক ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে। এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করা লিন্ডসে গ্রাহামের ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, তাঁদের সামনে টেবিলে রাখা রয়েছে ‘মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন’ (ইরানকে আবার মহান করুন) লেখা দুটি টুপি।

রেজা পাহলভিকে আশ্বস্ত করে সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বৈঠকে বলেন, ‘আমি আমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করি সাহায্য আসছে।’ এই বৈঠককে ইরান বিষয়ক মার্কিন নীতি ও প্রভাব বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, পাহলভি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য সেনেটরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ক্ষমতায় আসলে ইরানের সামরিক খাতে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করবেন বলে ঘোষণা করেছেন রেজা পাহলভি। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে শত্রুতার অবসান এবং ইরানকে একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। এক্সে পোস্টে এক ভিডিও বার্তায় ইরানের ক্রাউন প্রিন্স বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমাদের বন্ধুরা, ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের দাসত্বে থাকতে থাকতে আপনাদের মনে হয়তো ধারণা হয়েছে যে ইরান মানেই সন্ত্রাসবাদ, মৌলবাদ এবং দারিদ্র; কিন্তু এটা ইরানের প্রকৃত চেহারা নয়। সত্যিকারের ইরান হল একটি সুন্দর, শান্তিপ্রিয় এবং সমৃদ্ধ ইরান, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ক্ষমতাসীন হওয়ার আগে ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এবং যেদিন থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটবে, ছাই-ভস্ম থেকে সেই পুরনো প্রকৃত ইরান ফের জেগে ওঠা শুরু করবে। সেই নতুন ইরানে সামরিক খাতে পরমাণু প্রকল্প বন্ধ করা হবে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন ও সহায়তা প্রদান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হবে এবং সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক পাচার এবং ইসলামি কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই করবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *