‘আগে ভ্যানিশ হটাও, তারপর অন্য কাজ।’ দিল্লির রামলীলা ময়দানের প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে এমনই হুঙ্কার দিলেন তৃণমৃল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার পুরনো মেজাজে দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। জনপ্রিয় ইংরেজি ছড়ার সঙ্গে মিলিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে ছুড়ে দিলেন একের পর এক কটাক্ষ।
ভোটে অনিয়মের অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ সভা অনুষ্ঠিত হল। এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে এদিন বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিরোধী দলের নেতারা রাজধানীতে পৌঁছান। বিকেলে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত হন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গেই হুডখোলা গাড়িতে চেপে ময়দানে পৌঁছন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং সিপিএমের এম এ বেবি। মধ্য দিল্লির কনট প্লেস ও মিন্টো রোডের সংযোগস্থল থেকে শুরু হওয়া বিশাল মিছিলে কয়েক হাজার সমর্থকের ভিড় উপচে পড়ে। বিকেলে ৩টে নাগাদ মিছিলটি রামলীলা ময়দানে এসে পৌঁছয়। এর পর সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নিশানা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ভ্যানিশ কুমার, আপনি ভোট ভ্যানিশ করে দিয়েছেন। মানুষের চাকরি, ভোটাধিকার, জীবন সব লুট করেছেন। আমাদের একটাই কথা, আগে ভ্যানিশ হটাও, তারপর অন্য কাজ।’ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘পশ্চিমবঙ্গে ওরা ভোট লুট করেছে। আমি তো হারিনি, আমাকে হারানো হয়েছে। এখন আমাকে গৃহবন্দি করে রেখেছে। জেনে রাখুন, গণতন্ত্রের মাধ্যমে দেশবাসীকে প্রকৃত ভালোবাসা হয়।’ এদিন বিরোধী শিবিরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতে প্রতিবাদের ব্যাটন সবচেয়ে বড় বিরোধী কংগ্রেসকে নয়, যুব প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। ‘জ্ঞানেশ হটাও’য়ের ডাক দিয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যুব প্রজন্ম নেতৃত্ব দিন, আমরা গাইড করব।’ একই সঙ্গে কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীকে ‘আমার নেত্রী’ বলে বর্ণনা করেছেন তৃণমূল নেত্রী। ইন্ডিয়া জোটের মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, ‘সনিয়াজি আমার নেত্রী। রাহুল তরুণ নেতা। আমরা ছাড়ব না। লড়ব। ওরা (বিজেপি) আমাদের বাংলাকে লুট করেছে। আমরা দিল্লিতে এসেছি। গণতন্ত্রকে রক্ষা করব।’ এছাড়া তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে শেষ বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর পরাজয়ের প্রসঙ্গ।
