লাদাখ-কাশ্মীর থেকে অরুণাচলে একাধিক টানেল তৈরি করছে সরকার

Spread the love

ভারতের সীমান্ত এলাকায় বিগত বেশ কয়েকবছর ধরে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে বিশেষ জোর দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। মূলত সীমান্তকে দুর্ভেদ্য করার জন্যই সেখানে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হচ্ছে। এই আবহে উত্তরপূর্ব থেকে শুরু করে উত্তরে সীমান্ত জুড়ে কৌশলগত সুড়ঙ্গের পর সুড়ঙ্গ তৈরি করা হচ্ছে। এরই মাঝে এবার লাদাখে ভারত-চিন সীমান্ত থেকে শুরু করে অরুণাচলে তৈরি হচ্ছে আরও একাধিক সুড়ঙ্গ।

জম্মু-কাশ্মীর থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্ব ভারত পর্যন্ত নির্মীয়মান একাধিক সুড়ঙ্গ চিন ও পাকিস্তানের সীমান্তে ভারতের সামরিক শক্তিকে আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। হিমালয়ের প্রত্যন্ত এবং দুর্গম অঞ্চলে সব মরশুমের উপযোগী সড়কের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা মসৃণ হবে। এরই সঙ্গে এই সব সুড়ঙ্গ প্রকল্পগুলি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গতি আনবে সেই এলাকায়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ছয়টি সুড়ঙ্গ প্রকল্পের বিস্তারিত প্রতিবেদনের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হল শিঙ্কু লা টানেল (৪.১ কিমি)।

১৫৮০০ ফুট উচ্চতায় নির্মিত এই শিঙ্কু লা সুড়ঙ্গটি বিশ্বের সর্বোচ্চ সুড়ঙ্গ হবে। এটি নিম্মু-পদম-দর্চা রুটের মাধ্যমে লাদাখকে জুড়বে। সব মরশুমের জন্য তৃতীয় বিকল্প রুট হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে এই টানেলকে। সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি হওয়ার কারণে এই রুটটি কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে টানেলটির প্রাক-নির্মাণ (প্রাথমিক খননকার্য) শুরু করার কথা রয়েছে।

এদিকে অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং সেক্টরের স্মালডার সুড়ঙ্গ ভারতীয় সেনার জন্য তুরুপের তাস হতে পারে। এই সুড়ঙ্গের মাধ্যমে উপগ্রহকে ফাঁকি দিয়েই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পর্যন্ত ভারী আর্টিলারি এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে যেতে পারবে সেনাবাহিনী। এই সুড়ঙ্গের কাজ ২০২৭ সালের মধ্যে শুরু হবে। মণিপুরের মোরে-তুয়াইবুল সুড়ঙ্গপথ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য এবং সামরিক চলাচলের নয়া পথ খুলে দেবে। এদিকে অরুণাচলের তাওয়াং সেক্টরে নেচিপু টানেলের পাশে আরও ২-৩টি ছোট সুড়ঙ্গের জন্য রিপোর্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই সুড়ঙ্গগুলি বাস্তবায়িত হলে ভারী আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলএসি) পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।এছাড়া অনন্তনাগ থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়ার পর্যন্ত সংযোগকারী টুইন টানেল সিন্থান টপের রিপোর্ট চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এই সুড়ঙ্গটি। উল্লেখ্য, শীতকালে সিন্থান টপ পাস বন্ধ থাকে। তবে শীতকালে ভারী তুষারপাতের মধ্যেও উপত্যকায় যাতায়তের বিকল্প এবং নিরাপদ পথ হতে পারে এই টুইন টানেল। এই সুড়ঙ্গের ভূ-কারিগরি সমীক্ষার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *