২০২৪ সালের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আসার পরই বহু আওয়ামী লীগ নেতা আশ্রয় নিয়েছিলেন কলকাতায়। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ জওয়াহারুল ইসলাম। দীর্ঘদিন কলকাতায় বসবাস করা এই আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে ২৭ ফেব্রুয়ারি। জানা গিয়েছে, দমদমের একটি হাসপাতালে নাকি বিগত একসপ্তাহ ধরে ভর্তি ছিলেন তিনি। সেখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন জওয়াহারুল। রিপোর্ট অনুযায়ী, মাল্টি অর্গান ফেলিওর এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
জওয়াহারুল ইসলাম ছিলেন টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। জানা গিয়েছে, জওয়াহরুলের স্ত্রী তাঁর সঙ্গে কলকাতাতেই ছিলেন। তিনি মেডিক্যাল ভিসায় কলকাতায় এসেছিলেন। এদিকে প্রাক্তন সাংসদের কন্যা বিদেশে থাকেন। বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি কলকাতায় এসেছিলেন। এদিকে রিপোর্টে জানা গিয়েছে, জওয়াহরুলের পরিবার চাইছে, তাঁর মৃতদেহ যেন তাঁরা বাংলাদেশে নিয়ে যেতে পারেন। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এই আবহে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের মাধ্যমে সংকেত দেওয়া হবে ঢাকা থেকে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান জওয়াহারুল। এরপর ২০১৮ সালে টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন পেশায় আইনজীবী জওয়াহারুল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি ভারতে আসেন এবং কলকাতার নিউটাউনে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রী মেডিক্যাল ভিসায় কলকাতায় আসেন। তারপর থেকে স্ত্রীর সঙ্গে নিউটাউনেই বসবাস করতেন জওয়াহারুল। সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে গত ২১ ফেব্রুয়ারি দমদম এলাকায় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
