West Asia conflict update: বিশ্ব-রাজনীতিতে ফের নতুন মোড়। ইরানের সঙ্গে আবারও সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি খারাপ হলে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প এও জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছেন এবং এখনও পর্যন্ত তাঁকে কেবল ‘চুক্তির মূল ধারণা’ সম্পর্কেই জানানো হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম’ ও ‘ফারসে’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেহরান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কাছে ১৪ দফা বিশিষ্ট একটি প্রস্তাব পেশ করেছে ৷ আর এর পরপরই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন হতাশাব্যঞ্জক মন্তব্য সামনে এসেছে । তাসনিম জানিয়েছে, এই প্রস্তাবের বিস্তারিত বিবরণের মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’-র জন্য একটি নতুন রূপরেখা বা কাঠামো তৈরি করা।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া হুঁশিয়ারি
ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে রাজি হননি যে, ঠিক কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে এই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। তিনি বলেন, ‘যদি তারা কোনও অসংযত আচরণ বা খারাপ কাজ করে আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব । তবে হ্যাঁ, এমনটা ঘটার একটি সম্ভাবনা অবশ্যই রয়েছে । কিন্তু এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না ৷’ সামরিক অভিযান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা ঘটতে পারে, এমন সম্ভাবনা আছে। তবে এখন দেখা যাক কী হয়।’ ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং তেহরান এখন চুক্তির দিকে ঝুঁকছে, কারণ দেশটি ‘বিধ্বস্ত’ হয়ে পড়েছে। পরে ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশাল’-এ লিখেছেন, ‘ইরান এইমাত্র আমাদের কাছে যে পরিকল্পনাটি পাঠিয়েছে, আমি শীঘ্রই তা পর্যালোচনা করব। তবে আমার মনে হয় না যে এটি গ্রহণযোগ্য হবে; কারণ গত ৪৭ বছরে তারা মানবজাতি ও বিশ্বের প্রতি যেসব অপকর্ম করেছে, তার জন্য তারা এখনও যথেষ্ট বড় মূল্য চুকিয়ে দেয়নি।’

ইরান কী বলছে?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। তেহরানের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনও চুক্তিতেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়। তাই এই সংঘাত আবার শুরু হওয়া ‘সম্ভব।’ ইরানের সামরিক সদর দফতরের ডেপুটি মহম্মদ জাফর আসাদি ফারস নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। আসাদি বলেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য মূলত মিডিয়া-কেন্দ্রিক। তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো, প্রথমত, তেলের দাম কমে যাওয়া ঠেকানো এবং দ্বিতীয়ত, নিজেদের তৈরি সংকট থেকে বেরিয়ে আসা। অন্যদিকে, ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় যে কোনও ধরনের আগ্রাসন প্রতিহত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সে দেশের উপ-বিদেশ মন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখন কূটনীতির পথ বেছে নেওয়া হবে নাকি সংঘাতের পথে হাঁটা হবে, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে।