এসআইআর পর্ব থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ পর্বে সরকারি কর্মীদের কেউ একটু গাফিলতি করলেই তাঁকে সাসপেন্ড করার মতো কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পিছ পা হয়নি নির্বাচন কমিশন। আর এবার ভোটগণনার আগে কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হল, গণনার ক্ষেত্রে গাফিলতি হলে চাকরি পর্যন্ত যেতে পারে সরকারি কর্মীদের। এর আগে ভোটগ্রহণের সময় ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারদের গাফিলতির বিষয়টি ধরা পড়েছিল। এই ক্ষেত্রে অভিযুক্ত সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে রিপোর্টে।
গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য। প্রতিটি গণনা টেবিলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাউন্টিং সুপারভাইজার বা কাউন্টিং অ্যাসিস্টেন্ট মধ্যে অন্তত একজনকে থাকতে হবে। এই ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদেরই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গণনার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে বেছে নেওয়া হবে এবং গোপনীয়তা রক্ষার্থে তাঁদের মোবাইল নম্বর জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না। অন্যদিকে, পুলিশ অবজার্ভাররা গণনাকেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা দেখভাল করবেন।
এদিকে কাউন্টিং সুপারভাইজার হিসেবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের কেন নিয়োগ করা হবে, কমিশনের এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে আদালতে যায় তৃণমূল। প্রথমে হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত মামলা করা হলে তা খারিজ হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্টেও এই মামলায় ধাক্কা খায় তৃণমূল। এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘কাউন্টিং সুপারভাইজার এবং কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী হতে পারেন, আবার রাজ্য সরকারি কর্মীও হতে পারেন। সুতরাং, যখন এই বিকল্পটি নিয়মেই রয়েছে, তখন কমিশন সিদ্ধান্ত নিতেই পারে দু’জনই কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী থাকবেন। এতে কোনও নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছে না।’ তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিব্বল এরপর বলেন, ‘না না এমনটা হতে পারে না।’ বিচারপতি তখন পালটা প্রশ্ন করেন, ‘কেন হতে পারে না?’ যদিও পরে মুখ রক্ষা করতে তৃণমূলের তরফ থেকে দাবি করা হয়, সুপ্রিম কোর্ট তাদের আবেদন খারিজ করে দেয়নি।
