শরীরে এই জীবাণু ঢুকেছে কি না কোন লক্ষণ দেখলে বোঝা যাবে?

Spread the love

পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus) প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং প্রাণঘাতী ভাইরাস, যা মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। সঠিক সময়ে লক্ষণ চেনা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই পারে এই মারণ ভাইরাসের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করতে।

নিপা ভাইরাসের লক্ষণ, প্রতিকার ও ঝুঁকি সম্পর্কে জেনে নিন।

নিপা ভাইরাস কী এবং কীভাবে ছড়ায়?

নিপা একটি ‘জুনোটিক’ ভাইরাস, অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, ফ্রুট ব্যাট বা ফলখেকো বাদুড় এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। সংক্রমিত বাদুড়ের লালা বা মূত্র লেগে থাকা ফল খেলে কিংবা সংক্রমিত শূকরের সংস্পর্শে এলে মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকেও এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

সংক্রমণের প্রধান লক্ষণগুলি কী কী?

নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণগুলি প্রকাশ পেতে শুরু করে। প্রধান উপসর্গগুলি হলো:

  • তীব্র জ্বর ও মাথাব্যথা: সাধারণ জ্বরের মতো মনে হলেও এর তীব্রতা অনেক বেশি হয়।
  • শ্বাসকষ্ট: সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে সর্দি, কাশি এবং মারাত্মক শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।
  • মানসিক বিভ্রান্তি: আক্রান্ত ব্যক্তি ঝিমুনি অনুভব করতে পারেন এবং অনেক সময় চারপাশ সম্পর্কে সচেতনতা হারিয়ে ফেলেন (Disorientation)।
  • খিঁচুনি ও এনসেফালাইটিস: পরিস্থিতি জটিল হলে মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস হতে পারে, যা থেকে খিঁচুনি এবং রোগী কোমায় চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?

১. ফল সংগ্রহকারী: যারা গাছ থেকে সরাসরি ফল পেড়ে খান বা কাঁচা খেজুরের রস পান করেন।

২. স্বাস্থ্যকর্মী: আক্রান্ত রোগীর সেবা করার সময় সরাসরি সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের ঝুঁকি প্রবল।

৩. প্রাণী পালক: বিশেষ করে যারা শূকর পালনের সাথে যুক্ত, তাদের বাড়তি সাবধানতা প্রয়োজন।

কীভাবে সাবধান হবেন? প্রতিরোধের উপায়

নিপা ভাইরাসের কোনো সুনির্দিষ্ট টিকা বা অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তাই সচেতনতাই একমাত্র সুরক্ষা।

  • কাঁচা রস বর্জন: শীতকালে কাঁচা খেজুরের রস পান করা পুরোপুরি বন্ধ করুন। বাদুড় অনেক সময় রসের হাঁড়িতে মুখ দেয় বা প্রস্রাব করে।
  • ফল ধুয়ে খাওয়া: কোনো ফল খাওয়ার আগে তা ভালো করে ধুয়ে নিন। যদি কোনো ফলের গায়ে কামড়ের দাগ বা ছিদ্র থাকে, তবে তা ভুলেও খাবেন না।
  • হাত ধোয়ার অভ্যাস: সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন।
  • মাস্ক ব্যবহার: সংক্রমিত এলাকায় চলাচলের সময় বা রোগীর সংস্পর্শে গেলে অবশ্যই মাস্ক এবং গ্লাভস ব্যবহার করুন।

দরকারি কথা

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তর ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা জারি করেছে। জ্বর বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিলে ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসার চেষ্টা না করে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। মনে রাখবেন, আগাম সতর্কতা ও সচেতনতাই নিপা ভাইরাসের মোকাবিলায় আমাদের প্রধান হাতিয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *