সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ২ বাংলাদেশির একজন তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধে আটক হন?

Spread the love

সৌদি আরবে ২ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ক্রমেই ক্ষোভ বাড়ছে বাংলাদেশের নানান মহলে। প্রাথমিকভাবে মিডিয়া রিপোর্টে জানা যায়, সৌদিতে মসজিদে বাংলাদেশের ওই দুই যুবক যুবতী অনৈতিক কর্মকাণ্ড করার অভিযোগে অভিযুক্ত। সদ্য তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এরপরই এই বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়ে সৌদিতে চিঠি পাঠায় ঢাকা। তারেক রহমানের বাংলাদেশের পাঠানো সেই চিঠিতে কী রয়েছে!

বাংলাদেশ, বিষয়টি নিয়ে চিঠিতে বিশদে তথ্য জানতে চায় সৌদি আরবের থেকে। যে চিঠি, সৌদি আরবের জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের তরফে পাঠানো হয়েছে রিয়াধকে, সেই চিঠির বিষয়বস্তু, বাংলাদেশের একাধিক মিডিয়ার রিপোর্টে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, চিঠিতে বলা হয়েছে, কয়েকটি গণমাধ্যমের খবর থেকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানতে পারে ঢাকা। দুই বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড মক্কা নগরীতে কার্যকর করা হয়েছে বলেও তাঁরা জানতে পারেন। বাংলাদেশ বলছে, নজরুল ও সুইটির শাস্তির বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না বাংলাদেশের কাছে। চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলখানায় বিভিন্ন অপরাধে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে সৌদির বিদেশ মন্ত্রককে অনুরোধ করা হয়েছিল। সেই বিষয়ে যে তালিকা পাওয়া গিয়েছে, তাতে নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তি(IT) সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। পরদিন সুইটিকে ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়। তালিকায় তাঁদের কারও সাজার বিষয়টি উল্লেখ ছিল না বলে চিঠিতে বলা হয়। রিপোর্ট বলছে, সৌদি আরবে তথ্যপ্রযুক্তি বা ব্যভিচারের অভিযোগে আগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলে, বাংলাদেশি কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, সৌদিতে ছেলের মৃত্যুদণ্ডের খবর পেতেই শোকস্তব্ধ নজরুলের পরিবার। নজরুলের বাবা ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘নজরুল কারাগারে থাকার সময় তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,তাঁর কাছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে কেউ যোগযোগ করেছে কিনা। কিন্তু কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’ নজরুলের বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিটি দেশের কনস্যুলেট জেলে থাকা তাদের নাগরিকদের খোঁজ খবর নেয়। অথচ আমাদের দেশের কনস্যুলেট থেকে তাঁর কোনও খোঁজ নেওয়া হয়নি।’ এদিকে, বাংলাদেশের কনস্যুলেটের তরফে যে চিঠি সৌদির কাছে পাঠানো হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তার জন্য কোনও আবেদন পাওয়া যায়নি, কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। এমনই দাবি মিডিয়া রিপোর্টে। রিপোর্ট আরও বলছে, কনস্যুলেটের চিঠিতে বলা হয়েছে, সৌদির কর্তৃপক্ষও এই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা এবং তা কার্যকরের বিষয়ে কিছু জানায়নি।

এদিকে, সুইটি আক্তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবে তাঁর সঙ্গে কাজ করা অন্য মহিলারা অবৈধভাবে একটি গাড়ি কিনেছেন। এই ঘটনায় তাঁদের সঙ্গে তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। কারাগারে থাকলেও মা–বাবার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তাঁর। জানা যাচ্ছে, শেষবার ১৩ অক্টোবর বাবা-মায়ের সঙ্গে সুইটির কথা হয়। পরেরদিনই সুইটির মৃত্যুদণ্ডের খবর আসে পরিবারের কাছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *