Bombs found from Ex TMC Councilor’s Office। প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের অফিসে বালতি ভর্তি বোমা

Spread the love

প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের কার্যালয়ের গুদাম থেকে একসঙ্গে ১২টি তাজা বোমা উদ্ধারের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল হাওড়ায়। উত্তর হাওড়ার ঘুষুড়ির এক নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাগুলি উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করেছে। কোথা থেকে ওই বোমাগুলি এল, কেনই বা একটি রাজনৈতিক দলের প্রাক্তন কাউন্সিলরের অফিসের গুদামে সেগুলি রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘুষুড়ির প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সাবিত্রী দেবীর অফিসের একটি গুদাম ঘরেই ওই বোমাগুলির সন্ধান মেলে। সেখানে বেশ কিছু বালতি রাখা ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিজেপির কর্মীরা গুদামে যাওয়ার পর একটি বালতির মধ্যে বোমা রয়েছে বলে দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। দ্রুত মালিপাঁচঘড়া থানায় খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমাগুলি নিরাপদে উদ্ধার করে। প্রাথমিক ভাবে সেগুলিকে তাজা বোমা বলেই মনে করা হচ্ছে। পরে সেগুলি নিষ্ক্রিয় করা হয়। তবে ওই গুদরে কী ভাবে বিস্ফোরক পৌঁছল, কে বা কারা সেখানে তা রেখেছিল এবং কত দিন ধরে সেগুলি মজুত ছিল, সেই সব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। তদন্তকারীরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, বোমাগুলি কোনও উদ্দেশ্য ছাড়াই সেখানে রাখা ছিল না। তাদের দাবি, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় না এলে এই বিস্ফোরক বিরোধীদের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহার করা হতে পারত। এই অভিযোগ অবশ্য বিজেপির রাজনৈতিক বক্তব্য হিসাবেই সামনে এসেছে। পুলিশ এখনও এমন কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি, যাতে ওই বোমা মজুতের উদ্দেশ্য বা এর পিছনে কারা ছিলেন তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।

স্থানীয় বিজেপি কর্মী এবং বাসিন্দাদের বক্তব্য, গুদামে আগে থেকেই প্রচুর পুরসভার বালতি রাখা ছিল। সেই বালতিগুলির একটিতে বিস্ফোরক পাওয়া যাওয়ার পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তাঁদের দাবি, এমন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এতগুলি বোমা কী ভাবে ঢুকল, তা নিয়ে দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এ দিকে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ইতিমধ্যে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। গুদরের দায়িত্বে কারা ছিলেন, সেখানে নিয়মিত কারা যাতায়াত করতেন এবং বিস্ফোরকগুলি সেখানে রাখার সঙ্গে কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে।

ঘটনা নিয়ে এখনও প্রাক্তন কাউন্সিলর সাবিত্রী দেবী বা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের বাইরে পুলিশের তদন্তেই আপাতত নজর রয়েছে।

একটি রাজনৈতিক দলের প্রাক্তন কাউন্সিলরের অফিসের গুদাম থেকে একসঙ্গে এতগুলি বোমা উদ্ধারের ঘটনা স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে সামনে যখন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে, তখন এই উদ্ধারকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে হাওড়ায়। তবে বোমাগুলির উৎস এবং সেখানে মজুত করার আসল কারণ জানতে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *