জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েও স্বস্তি নেই ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার। বুধবার রাতে তিহাড় জেল থেকে বেরোনোর সময়ই তাঁদের হাতে সমন ধরিয়ে দেয় দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় দিল্লির রাজৌরি গার্ডেনে ক্রাইম ব্রাঞ্চের দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে দুজনকে। সেখানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া দুটি মামলার তদন্তে এবার নতুন করে তৎপর হয়েছে পুলিশ।
বুধবারই মিলেছিল জামিন
গত কয়েক দিন ধরে দিল্লির সিজেপি নেতাদের ঘিরে টানাপড়েন চলছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেই পর্বেই ১৩ ও ১৪ অক্টোবর সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার পুলিশ। অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই তাঁরা যন্তর মন্তরের নিষিদ্ধ এলাকায় বিক্ষোভ দেখাতে গিয়েছিলেন। এর ফলে শান্তি বজায় রাখার শর্ত ভাঙা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। সরকারি নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
এর পর দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছিল পুলিশ। সোমবার তাঁদের হেফাজত আরও দুদিন বাড়ানো হয়েছিল। পরে বুধবার বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত পুলিশের হেফাজত বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দেয়। দুই নেতাকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু জেল থেকে বেরোনোর আগেই তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছিল নতুন সমন।
তদন্তে একাধিক প্রশ্ন পুলিশের
দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, দুই নেতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির তদন্ত ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, ঘটনাটির পিছনে বৃহত্তর কোনও ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই নেতার বক্তব্যের মধ্যে অসংগতি পাওয়া গিয়েছে বলেও তদন্তকারীদের একাংশের দাবি। সেই কারণেই তাঁদের ফের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।

যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দুটি পৃথক এফআইআর দায়ের হয়েছিল। একটি মামলায় সরকারি নির্দেশ অমান্য, অন্যের সম্পত্তিতে বেআইনি প্রবেশ এবং ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য মামলায় সরকারি কর্মীর কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এই সব অভিযোগ এখনও তদন্তের পর্যায়ে। কোনও অভিযোগই আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
রাজনৈতিক উত্তেজনা কি আরও বাড়বে?
সিজেপির আন্দোলনকে ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই চাপানউতর চলছে। এক দিকে বিক্ষোভের অনুমতি এবং নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের অভিযোগ তুলছে পুলিশ। অন্য দিকে, প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বুধবার জামিন পাওয়ায় আপাতত কারাগারের বাইরে সৌরভ ও আশুতোষ। কিন্তু ক্রাইম ব্রাঞ্চের সমনের ফলে তাঁদের আইনি লড়াই শেষ হয়নি। বৃহস্পতিবারের জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর থাকবে। মামলার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, তা স্পষ্ট হবে আগামী দিনে।