‘আনন্দের নামে আর কত প্রাণকে আতঙ্কিত করব…’! অবলা পশুদের জন্য কী আবেদন শ্রীলেখার?

Spread the love

কালীপুজো ও দিওয়ালির সময় প্রতিবছরই শব্দবাজি না ফাটানোর অনুরোধ করে একাধিক পোস্ট ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়াতে। সরকারের বিধিনিষেধ অমান্য করেই প্রতি বছর সেই একই চিত্র ধরা পড়ে। যাদের বাড়িতে কুকুর বা বিড়ালের মতো পোষ্য রয়েছে তাঁরা জানেন যে, এই শব্দবাজি অবলা পশুদের জন্য কতটা ক্ষতিকারক হতে পারে। এমনকী, আওয়াজে অসুস্থও হয়ে পড়েন বহু অবলা।

লক্ষ্মীপুজোর আগেই শব্দবাজি নিয়ে একটি পোস্ট করেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। লিখলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এ বছরও বলব। বলেই যাব। যতক্ষণ না আমাদের কথা শোনা হচ্ছে, বলে যাব! যাদের শোনার ইচ্ছে নেই, তারা হয়তো এক টান সিগারেটের ধোঁয়া টেনে উড়িয়ে দেবেন আমাদের কথাগুলো। কিন্তু তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। কারণ ওরা আমাদের সন্তানসম। ওদের আমরা ভালোবাসি নিজের সন্তানের মতো। অনেকের কাছে আমাদের এই ভালোবাসা পাগলামি, অনেকের কাছে বাড়াবাড়ি। তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। ওদের জন্য আমরা প্রাণ দিতেও প্রস্তুত। অপমান,অসভ্যতা—কত কিছু সহ্য করেও আমরা ওদের পাশে থাকি, ওদের জন্য লড়াই করি। কারণ ওরা কথা বলতে পারে না। আমরা ওদের ভাষা বুঝি, ওদের যন্ত্রণা বুঝি, ওদের ভয় বুঝি।

‘Dr Dolittle সিনেমাটা দেখেছেন? আমরাও যেন এক একজন Dr Dolittle. ওরা মুখে বলতে পারে না, কিন্তু ওদের চোখের ভাষা, ওদের আতঙ্ক, ওদের কষ্ট আমরা বুঝতে পারি।গতকাল থেকে হঠাৎ করে বাজির আওয়াজ শুরু হয়েছে। আগামীকাল লক্ষ্মীপুজো, অথচ এখন থেকেই চারদিকে ধুমধাড়াক্কা শব্দবাজি! আমার ছোট্ট বেড়ালছানাটা গোল গোল চোখ করে, চমকে চমকে উঠছে।লক্ষ্মীপুজোর আগেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে কালীপুজোয় কী হবে? মানুষের আনন্দের কাছে কি পশুপাখিদের জীবন, নিরাপত্তা আর মানসিক যন্ত্রণার কোনও মূল্য নেই? পদপৃষ্ঠ হয়ে কত মানুষের প্রাণ গেল, সেই যন্ত্রণাও কি আমরা এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলাম? আনন্দের নামে আর কত প্রাণকে আতঙ্কিত করব? আমরা ওদের রক্ষা করব। আমাদের সাধ্যমতো সবটুকু দিয়ে ওদের পাশে দাঁড়াব।’, আরও লেখেন শ্রীলেখা।

সঙ্গে জানান, West Bengal Animal Rights Activists Front-এর উদ্যোগে ১ নভেম্বর নন্দন থেকে একটি প্রতিবাদি র্যালি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে সব পশুপ্রেমীদের অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানালেন শ্রীলেখা। এই র‍্যালি-র দাবি, ‘শব্দবাজি বন্ধ হোক। মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণী, সবাই নিরাপদে বাঁচুক।’

নিজের পোস্টের শেষে শ্রীলেখা আরও লেখেন, ‘ওদের ভালো না-ই বাসতে পারেন। কিন্তু ওদের ভয়, ওদের যন্ত্রণা, ওদের বেঁচে থাকার অধিকারটুকু অন্তত সম্মান করুন।ওরা আমাদের সঙ্গে একই পৃথিবীতে বাস করে। ওরা আমাদের মতো কথা বলতে পারে না, নিজেদের অধিকারের জন্য রাস্তায় নামতে পারে না। তাই বলে ওদের যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করার অধিকার আমাদের নেই। COEXIST করুন। সহাবস্থান করতে শিখুন। কারণ পৃথিবীটা শুধু মানুষের নয়’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *