বাংলাদেশে বায়ুসেনার প্রাক্তন কর্মী তাহাসিফ সৌরির মৃত্যু ঘিরে ক্রমেই দানা বাঁধতে শুরু করেছে রহস্য। কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে তাহাসিফের দেহ। এরপর থেকেই প্রশ্ন ওঠে এই মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি খুন? এরই মাঝে বাংলাদেশের পুলিশ নেমেছে তদন্তে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র জনতা আন্দোলনের জেরে ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যূত হন শেখ হাসিনা। সেদিনই তিনি হেলিকপ্টারে বাংলাদেশ ছাড়েন। হাসিনার সেই বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। একাধিক মিডিয়া রিপোর্ট দাবি করছে, সেই ভিডিয়ো তোলার ব্যাপারে যোগ থাকতে পারে তাহাসিফের। এদিকে, ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার কথা রয়েছে। ঠিক তার আগে, তাহাসিফের মৃত্যু নিয়ে উঠছে বহু প্রশ্ন।
তাহাসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নেমে সেদেশের পুলিশ গ্রেফতার করেছে তাহাসিফের বন্ধু স্থানীয় আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ নামে এক ব্যক্তিকে। ঘটনার দিন এই দীপের সঙ্গেই শেষবার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তাহাসিফ। জানা যাচ্ছে, জেরায় দীপ জানিয়েছেন, ‘আমরা সেখানে (ঘটনাস্থল) কথা বলছিলাম। এ সময় কিছু লোক ধাওয়া করে। তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেয়, আর আমি পালিয়ে আসি।’ দীপের এই বক্তব্যেই ছড়িয়ে যাচ্ছে রহস্যের জটাজাল। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-র খবর অনুসারে, তৌসিফের বন্ধু দীপের দাবি, যাঁরা সেই রাত্রে তাঁদের ধাওয়া করেন, তাঁরা পুলিশের লোক। এদিকে, বাংলাদেশের টাঙ্গীর মাজার বস্তিতে উদ্ধার হয়েছে তাহাসিফের খোওয়া যাওয়া মোটর সাইকেল। বাংলাদেশ পুলিশ বলছে, টঙ্গীর মাজার বস্তি বড় মাদক স্পট, হয়তো মাদক কারবারি কিংবা পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তাহসিফ ডুবে যেতে পারেন।
দীপকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, সেদিন রাতে পোশাক পরা দুজন পুলিশ অফিসারকে দেখে তাঁরা দৌড়ে দুই দিকে চলে যান। ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা কারা, তাহসিফের মোটরসাইকেলটি এখানে কীভাবে এল, তা জানার চেষ্টা চলছে। গোটা ঘটনা নিয়ে ক্রমেই ঘনাচ্ছে রহস্য। এদিকে, তাহাসিফের পরিবারের সকলে ঘটনা নিয়ে খুনের অভিযোগ তুলছেন।
