INDIA Bloc’s rally: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) বাতিলের দাবিতে রবিবার দিল্লির রাজপথে শক্তি প্রদর্শনে নামছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (Delhi Protest)। ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ নামের এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিরোধী নেতা ও সমর্থকেরা রাজধানীতে জমায়েত হতে শুরু করেছেন। হুড খোলা গাড়িতে রামলীলা ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। এই পরিস্থিতিতে শিখ-দাঙ্গা মনে করিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে ও বিরোধী জোটকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda)। তাঁর অভিযোগ, গণতন্ত্র রক্ষার নামে বিরোধীরা দেশে অস্থিরতা তৈরি, অর্থনীতির ক্ষতি এবং নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। রাহুল গান্ধীকে সরাসরি আক্রমণ করে জেপি নাড্ডার মন্তব্য, ‘ভারত কোনও ব্যানানা রিপাবলিক নয়।
ইন্ডিয়া জোটের ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচিকে ‘গণতন্ত্রের নামে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে কটাক্ষ করেন জেপি নাড্ডা। তাঁর দাবি, নির্বাচনে পরাজিত ও জনতার দ্বারা প্রত্যাখ্যাত দলগুলি রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এই ধরনের কর্মসূচি করছে। তিনি এই সমাবেশকে ‘পরিকল্পিত ও নির্বোধ নাটক’ বলেও অভিহিত করেন। রবিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে জেপি নাড্ডা বলেন, ‘নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্যই কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা এই ধরনের বিক্ষোভ করছে। এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রেরই অংশ। গান্ধী পরিবারের রাজনীতির বিশেষ এক মডেল রয়েছে, তা হল মিথ্যা ও গুজব ছড়ানো। অস্থিরতা তৈরি করা। অর্থনীতির ক্ষতিসাধন করা এবং সর্বোপরি একটি নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা। এর নেপথ্যে বিদেশি শক্তি রয়েছে।’ রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, ‘ভারত কোনও দুর্বল রাষ্ট্র নয়, যেখানে যে কেউ সহজেই অগ্নিসংযোগ বা অশান্তি উসকে দিতে পারে কিংবা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারে।’
রাহুল গান্ধীর রাজনীতির ধরন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নাড্ডা চারটি ধাপের কথা বলেন। তাঁর অভিযোগ, প্রথমে মিথ্যা ও গুজব ছড়ানো হয়, এরপর রাস্তায় অশান্তি উসকে দেওয়া হয়, তারপর দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিদেশি শক্তির মদতে নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলে। বলে রাখা প্রয়োজন, ১ নভেম্বর ভারতের ইতিহাসে এক রক্তাক্ত দিন। ১৯৮৪ সালে ৩১ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পরবর্তী দাঙ্গায় রাজধানী-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বলি হতে হয়েছিল শিখ সম্প্রদায়ের মানুষকে। কিন্তু সেই দিনটিকেই বিক্ষোভের জন্য বেছে নিয়েছে কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। তা নিয়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ শানিয়েছেন জেপি নাড্ডা। তাঁর অভিযোগ, ১ নভেম্বরের সমাবেশের পিছনে চারটি উদ্দেশ্য রয়েছে। শিখ সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত করা, দিল্লিতে হিংসা ছড়িয়ে নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করা, উৎসবের মরশুমে ব্যবসায়ীদের রোজগারে প্রভাব ফেলা এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করাই বিরোধীদের লক্ষ্য বলে দাবি করেন তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, ‘আজকের দিনটিতে দাঙ্গায় নিহতদের স্মরণ করা উচিত ছিল। গান্ধী পরিবার শিখ-দাঙ্গার জন্য কোনওদিন ক্ষমা চায়নি। কিন্তু বিশেষ এই দিনটিতেই বিশৃঙ্খলা তৈরির ডাক দেওয়া হয়েছে।’ তাঁর বক্তব্য, ‘দেশের জনগণ এই ফাঁদে পা দেবে না। মানুষ ষড়যন্ত্র বুঝে গিয়েছে। উৎসবের মরশুমে বিরোধীদের এই বিক্ষোভের জেরে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।’
