‘বাঁশি বাজানো তো খেলা’! শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে শ্রীরামের তুলনা! বিতর্কে বাগেশ্বর বাবা

Spread the love

ফের বিতর্কে বাগেশ্বর বাবা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। দুর্গাপুজোর সময় আমিষ খাওয়া নিয়ে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের পর এবার এবার তিনি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে শ্রীরামের তুলনা করে এক নয়া বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। আর সেই মন্তব্যের জেরেই এবার মুখ খুলেছেন বিজেপি বিরোধী একাধিক পার্টির নেতারা। ইতিমধ্যেই মন্তব্যের নিন্দার সরব হয়েছেন সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব। মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ঈশ্বরের অপমানে মামলা হবে না?’

হিন্দু পুরাণ মতে বিষ্ণুরই দুটি ভিন্ন অবতার হলেন শ্রী রাম ও শ্রীকৃষ্ণ। আর সেই অবতারের তুলনা করেছেন বাগেশ্বর ধামের বাবা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। সম্প্রতি একটি ভিডিয়োয় (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ইনিউজবাংলা) বাগেশ্বর বাবা শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। শ্রীকৃষ্ণকে ঠাকুরজি সম্বোধন করে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বলেন, ‘তোমাদের ঠাকুরজি তো সোজা দাঁড়াতে পারেন না। সব ছবিতেই তিনি বক্র ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে। তাঁর পা একটির সঙ্গে আরেকটি জড়িয়ে, তারপর তাঁর কোমর ব্যাঁকা, এরপর ঘাড়ও বক্র। আমাদের ঠাকুর রাম কিন্তু সব জায়গায় সোজা দাঁড়িয়ে। তাঁর নাম সোজা, তিনি তাকান সোজা এবং হাঁটেন সোজা। তোমাদের কৃষ্ণের দৃষ্টিও বক্র, চলনও বক্র।’ এখানেই শেষ নয়। যে ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে, তাতে একটি জায়গায় দেখা যাচ্ছে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বলছেন, ‘বাঁশি বাজানো তো একটা খেলা, কিন্তু তির-ধনুক চালানো কোনও খেলা নয়। তোমাদের ঠাকুরের বাঁশি বাজানো এমন কোনও বড় ব্যাপার নয়। এই মঞ্চেই এমন লোক রয়েছেন, যিনি একই রকম বাঁশি বাজাতে পারেন।’ মধ্যপ্রদেশের শিবপুরিতে হওয়া এক অনুষ্ঠানে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে এমন বক্তব্য বলতে শোনা যায়।

ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই, বাগেশ্বর বাবার মুখে উঠে আসে ক্ষমা প্রার্থনার সুর। বিতর্কের পর তিনি বলছেন, ‘অনেকেই আমার কথার ভুল ব্যাখ্যা করছেন। আমায় বিষয়টি বলতে দিন, আমি নিজের ঠাকুরজির ভক্ত। আমি ব্রজের ভক্ত।’ তাঁর দাবি ভেদাভেদ তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তাঁর বক্তব্য, ‘ আমি একজন সাধুর একটি সুপরিচিত শ্লোকের উল্লেখ করেছিলাম, যা থেকে বোঝা যায় যে বাঁশি বাজানো নিছক একটি খেলা হলেও, ধনুক চালনা করা অনেক বেশি গুরুতর একটি বিষয়। আমি কেবল এই ভাবটিকেই বিশদভাবে ব্যাখ্যা করছিলাম; কিন্তু অনেকেই পুরো ভিডিওটি না দেখে, এর কেবল একটি অংশ দেখে আমাকে ‘কৃষ্ণ-বিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।’

এদিকে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও ওই ধর্মপ্রচারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, ‘ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও আপত্তিকর’ বলে উল্লেখ করেছেন। মমতাপন্থী কুণাল ঘোষ বলেন, ‘শ্রীকৃষ্ণকে এইভাবে অপমান করার অধিকার বাগেশ্বরকে কে দিল?’ তিনি বলেন, ‘এর আগে বাঙালিদের কটূক্তি, এবার ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত, ঈশ্বরের অপমানে মামলা হবে না?’

Leave a Reply