‘Narendra Modi Became PM Because of Foreign Help’: Rahul Gandhi
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক উস্কে দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি সাহায্য নিয়েই প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। শুধু তাই নয়, এখনও বিদেশি শক্তির সমর্থনেই ক্ষমতায় রয়েছেন তিনি। মোদীর আর্থিক ব্যবস্থাও বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস সাংসদ। পাল্টা রাহুলকে আক্রমণ করতে ২০২৩ সালের পুরনো একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আনল বিজেপি। সেই ভিডিয়োতে ব্রিটেনে দাঁড়িয়ে ভারতীয় গণতন্ত্রের পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমের দেশগুলির নীরবতার সমালোচনা করতে শোনা গিয়েছিল রাহুলকে। বিজেপির দাবি, অতীতে বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন রাহুলই। ফলে বিদেশি সাহায্য নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর।
কী বলেছিলেন রাহুল?
বিতর্কের সূত্রপাত প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। গত ৩১ অক্টোবর গুজরাতের রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করে বিরোধীদের নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)। তাঁর অভিযোগ ছিল, কিছু শক্তি বিদেশের মাটি থেকে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। দেশের মধ্যে বিভাজন তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে। বিদেশে কারা কার সঙ্গে গোপনে বৈঠক করছেন, ভারতবিরোধী শক্তিগুলি কাদের সমর্থন করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মোদী।
সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে সমাজমাধ্যমে পাল্টা আক্রমণ করেন রাহুল। তিনি লেখেন, প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে মিথ্যা বলছেন। বিদেশি সাহায্য নিয়েই প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মোদী (‘Narendra Modi Became PM Because of Foreign Help’: Rahul Gandhi)। এখনও সেই সাহায্যের উপর নির্ভর করেই ক্ষমতায় রয়েছেন। তাঁর দাবি, মোদী সরকারের আর্থিক ব্যবস্থা বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণ ও সমর্থনের উপর নির্ভরশীল। বিদেশি সমাজমাধ্যমও প্রধানমন্ত্রীকে পুরোপুরি সমর্থন করে।
এর পরেই মোদীকে প্রকাশ্যে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানান রাহুল। তাঁর কথায়, যে কোনও জায়গায়, যে কোনও সময়ে আলোচনায় বসতে তিনি প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) সাহস থাকলে সেই বিতর্কে অংশ নিন। মোদী তাঁর জানা কিছু বিষয় নিয়ে ভীত বলেও কটাক্ষ করেন কংগ্রেস সাংসদ।

‘Narendra Modi Became PM Because of Foreign Help’: Rahul Gandhi
পুরনো ভিডিয়ো প্রকাশ করে পাল্টা বিজেপি
রাহুলের এই মন্তব্যের পরেই পাল্টা আক্রমণে নামে বিজেপি। দলের জাতীয় মুখপাত্র সি আর কেশবন ২০২৩ সালের মার্চ মাসে লন্ডনে রাহুলের দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিয়ো প্রকাশ করেন। সেই সময় ব্রিটেনের সাংসদ এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সামনে ভারতের গণতন্ত্রের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন রাহুল।
ভিডিয়োয় রাহুলকে বলতে শোনা যায়, আমেরিকা এবং ইউরোপের মতো দেশগুলি নিজেদের গণতন্ত্রের রক্ষক বলে দাবি করে। অথচ ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর একটা বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ থাকলেও পশ্চিমের দেশগুলি নীরব। তাঁর বক্তব্য ছিল, ভারতের গণতন্ত্রের লড়াই শুধু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর গুরুত্ব আরও অনেক বেশি।
এই বক্তব্যকেই হাতিয়ার করেছে বিজেপি। কেশবনের অভিযোগ, ২০২৩ সালে বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন রাহুল।
সনিয়া, সোরস এবং বিদেশ সফর নিয়েও প্রশ্ন
বিজেপির মুখপাত্র শুধু রাহুলের পুরনো বক্তব্যেই থেমে থাকেননি। কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ফোরাম অফ ডেমোক্র্যাটিক লিডার্সের কথিত সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ওই সংগঠনের সঙ্গে জর্জ সোরসের বিভিন্ন সংস্থার সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির। পাশাপাশি হিন্ডেনবার্গ এবং জার্মান শিক্ষাবিদ কর্নেলিয়া উলকে ঘিরেও কংগ্রেসের সঙ্গে বিদেশি সংগঠনগুলির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেশবন। রাহুলের বিদেশ সফরের উদ্দেশ্য এবং সেখানে কার সঙ্গে বৈঠক করেন, তা নিয়েও স্বচ্ছতা দাবি করেছেন তিনি। তবে বিজেপির এই অভিযোগগুলির সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সব মিলিয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মোদী ও রাহুলের সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। একদিকে প্রধানমন্ত্রী বিদেশি ষড়যন্ত্র নিয়ে সতর্ক করছেন, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা পাল্টা প্রধানমন্ত্রীর বিদেশি নির্ভরতার অভিযোগ তুলছেন। বিজেপি আবার রাহুলের পুরনো লন্ডন সফরের বক্তব্য সামনে এনে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দুই শিবিরের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার দিকে।
Tag: Narendra Modi Accused by Rahul | Notional News | Politics
Follow Us on: YouTube