নেপালে মাউন্ট এভারেস্টের কাছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। অবতরণের সময় আকাশেই একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেল দুটি হেলিকপ্টার। এর পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বরফে ঢাকা মাটিতে ভেঙে পড়ে দু’টি বিমান। মঙ্গলবার সকালে নেপালের সোলুখুম্বু জেলার ফেরিচে হেলিপ্যাডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এক ভারতীয় পর্যটকের। আহত হয়েছেন আরও তিন জন। তাঁদের মধ্যে এক জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিউ জ়িল্যান্ডের নাগরিক এবং দু’জন নেপালি পাইলট। দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে নেপাল পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পর্যটক এবং পর্বতারোহীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
এনডিটিভি এবং কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা ১১ মিনিট নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফেরিচে হেলিপ্যাডে অবতরণের চেষ্টা করছিল ফিশটেল এয়ার এবং এয়ার ডাইনেস্টি সংস্থার দুটি হেলিকপ্টার। সেই সময় আচমকাই দু’টির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দুটি হেলিকপ্টারের রোটর ব্লেড বা পাখার অংশ একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল। এর ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বরফের উপর আছড়ে পড়ে হেলিকপ্টার দুটি।
মৃত ভারতীয় পর্যটকের পরিচয়
প্রথমে মৃত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। পরে পুলিশ জানায়, তাঁর নাম বসন্ত কুমার বলরামারামাডু। বয়স ৪৭ বছর। তিনি ভারতীয় নাগরিক এবং চেন্নাইয়ের বাসিন্দা ছিলেন। ফিশটেল এয়ারের হেলিকপ্টারে পর্যটক হিসেবে সফর করছিলেন তিনি। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর দেহ লুকলা এলাকার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন শৈলেশ কৃষ্ণ পটেল নামে এক ব্যক্তি। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত হলেও নিউ জ়িল্যান্ডের নাগরিক। তাঁকেও ফিশটেল এয়ারের হেলিকপ্টারে পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার করে প্রভু এয়ারের একটি হেলিকপ্টারে তাঁকে কাঠমান্ডুর মেডিসিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুটি হেলিকপ্টারের চালকও আহত হয়েছেন। তাঁদের নাম রবীন্দ্র প্রজাপতি এবং প্রজ্বল কে সি। দু’জনেই নেপালের নাগরিক। প্রাথমিক ভাবে তাঁদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসার জন্য তাঁদেরও কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কী ভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অবতরণের ঠিক আগে দুটি হেলিকপ্টারের পাখা একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। তার পর মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বরফের উপর আছড়ে পড়ে বিমান দুটি। দুর্ঘটনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সেই ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করতে পারেনি এনডিটিভি।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিশটেল এয়ারের হেলিকপ্টারটি এভারেস্ট অঞ্চল থেকে উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের নিয়ে যাচ্ছিল। অন্য দিকে, এয়ার ডাইনেস্টির হেলিকপ্টারে শুধু পণ্য ছিল বলে সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন।
কেন ঝুঁকিপূর্ণ এভারেস্টের আকাশপথ?
নেপালের সোলুখুম্বু জেলা পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে যাওয়ার পথে ফেরিচে গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই জনপদে নিয়মিত হেলিকপ্টার চলাচল করে। পর্যটক পরিবহণের পাশাপাশি অসুস্থ পর্বতারোহীদের উদ্ধার করতেও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়।
কিন্তু এত বেশি উচ্চতায় বাতাসের ঘনত্ব কম থাকে। ফলে হেলিকপ্টারের পাখা পর্যাপ্ত শক্তি তৈরি করতে পারে না। ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতাও কমে যায়। তার উপর পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়া দ্রুত বদলে যায়। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে বিমান চলাচল যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে নেপালের অসামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষ। দুই হেলিকপ্টারের যাত্রী এবং কর্মীদের সম্পূর্ণ বিবরণও সংগ্রহ করা হচ্ছে। এভারেস্ট অভিযানের ব্যস্ত মরসুমে এই দুর্ঘটনা নেপালের পর্যটন ও বিমান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।