Air Fare Ticket Price Update। নয়া নিয়মে বিমান ভাড়ায় লাগাম টানতে পারবে কেন্দ্র

Spread the love

বিমানযাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে বিশেষ পরিস্থিতিতে বিমানের টিকিটের ভাড়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে কেন্দ্র। বিমান সংস্থাগুলি ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়ালে অথবা কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হলে হস্তক্ষেপের ক্ষমতা থাকবে সরকারের হাতে। শুধু তাই নয়, টিকিট কাটার সময় মূল ভাড়া, কর, অতিরিক্ত পরিষেবা মূল্য, টিকিট বাতিলের খরচ এবং টাকা ফেরতের শর্তও আলাদা করে জানাতে হবে বিমান সংস্থাগুলিকে। বিমানযাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ভাড়া সংক্রান্ত স্বচ্ছতা বাড়াতেই এই নতুন নিয়ম চালু করতে চলেছে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ভারতীয় বিমানযান নিয়মের অধীনে এই নতুন বিধিগুলি আনা হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর নিয়মগুলি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। ৩১ অক্টোবর তা ভারতের সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে। এর ফলে ১৯৩৭ সালের বিমান পরিবহণ সংক্রান্ত পুরনো নিয়মের জায়গা নেবে নতুন বিধি।

কেন্দ্রের হাতে ভাড়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা

নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, বিমান ভাড়ায় হস্তক্ষেপের ক্ষমতা সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে চলে আসা। এত দিন ১৯৩৭ সালের বিমান পরিবহণ সংক্রান্ত নিয়মের ১৩৫(৪) ধারায় অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে বিমান পরিবহণের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ (ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন) বিমান সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিতে পারত।

কিন্তু নতুন নিয়মের ১৯২(৬) ধারা অনুযায়ী, কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে এবং জনস্বার্থে হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করলে কেন্দ্র সরাসরি বিমান সংস্থাগুলিকে লিখিত নির্দেশ দিতে পারবে। তবে সেই নির্দেশ পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, সরকার এবার থেকে প্রতিটি বিমানের টিকিটের দাম নির্ধারণ করবে। নিয়মিত পরিস্থিতিতে বিমান সংস্থাগুলিই ভাড়া ঠিক করবে। প্রতিটি টিকিটের জন্য সরকারের আগাম অনুমোদন নেওয়ারও প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ, আপাতত বিমান ভাড়ার উপর কোনও স্থায়ী ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে না।

টিকিট কাটার আগে জানতে পারবেন পুরো খরচ

নতুন নিয়মে যাত্রীদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রাখা হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলিকে ওয়েবসাইটে টিকিটের মোট দাম স্পষ্ট ভাবে জানাতে হবে। শুধু মূল ভাড়া দেখালেই চলবে না। এর সঙ্গে কী পরিমাণ কর দিতে হচ্ছে, কোন খাতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে, টিকিট বাতিল করলে কত টাকা কাটা হবে এবং টাকা ফেরতের শর্ত কী, সবই আলাদা করে উল্লেখ করতে হবে।

টিকিট বুক করার সময় এবং টিকিটে এই সমস্ত তথ্য থাকা বাধ্যতামূলক। ভারতীয় বিমান সংস্থার পাশাপাশি ভারতে আসা, ভারত থেকে যাওয়া এবং ভারতের উপর দিয়ে যাতায়াত করা বিদেশি বিমান সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে।

ভাড়া নির্ধারণে নজরদারি ডিজিসিএর

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিমান সংস্থাগুলিকে পরিচালন খরচের মতো বিষয় মাথায় রেখে টিকিটের দাম নির্ধারণ করতে হবে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে ভাড়ার বিস্তারিত তথ্য ডিজিসিএর কাছে জমা দিতে হবে। সেই ভাড়ার উপর নজরদারি চালাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে ভারতে বিমান ভাড়া নির্ধারণের উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হয়েছিল। তার পর থেকে বাজারের চাহিদা, পরিচালন খরচ এবং বুকিংয়ের সময়ের ভিত্তিতে বিমান সংস্থাগুলি ভাড়া ঠিক করে আসছে।

বাড়তে থাকা জ্বালানির দাম এবং বিমান ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের অসন্তোষের মধ্যেই কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর বাস্তবে বিমান টিকিটের দাম কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply