Bangladesh Minister on Oil Prices Hike। ভারত-সহ পড়শি দেশে পাচার রুখতেই বাংলাদেশে তেলের দাম বাড়ানো হল

Spread the love

Bangladesh Minister on Oil Prices Hike: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে আজব যুক্তি খাড়া করলেন বাংলাদেশের মন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি দাবি করেছেন, ভারত-সহ বিভিন্ন পড়শি দেশের নিরিখে তেলের দাম কম ছিল বাংলাদেশে। সেই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে সেইসব দেশে তেল পাচার হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। আর পাচারের ঘটনা ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকার তেলের দাম বাড়ানোর পথে হেঁটেছে বলে দাবি করেছেন মন্ত্রী। পাশাপাশি তেলের দাম বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, জাহাজর ক্রমবর্ধমান ভাড়া এবং বিমা সংক্রান্ত খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ করতে হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

পড়শি দেশগুলিতে জ্বালানি তেলের দাম কত? হিসাব ধরালেন মন্ত্রী

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্বালানি বিষয়ক রাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন যে কলকাতায় এক লিটার ডিজেলের দাম পড়ছে ১৩৪ টাকা ৭৬ পয়সার মতো (ভারতীয় মুদ্রায় আজ ৯৯ টাকা, বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২৬ টাকার মতো)। শ্রীলঙ্কায় দাম ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা। মায়ানমারে এক লিটার ডিজেল কিনতে ১৬৪ টাকা ৩৮ পয়সা টাকা খরচ হয়। আবার পাকিস্তানে ১৮৫ টাকা ৪৮ পয়সায় বিকোচ্ছে এক লিটার ডিজেল। আর তাতেই বাংলাদেশ থেকে পড়শি দেশে তেল পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

 

‘প্রবাসী বাংলাদেশিদের রক্ত জল করা টাকা….’

তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে দাম বৃদ্ধির আগে বাংলাদেশে এক লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা। এক লিটার পেট্রোল কিনতে ১৪০ টাকা খরচ হচ্ছিল। অর্থাৎ পড়শি দেশের থেকে অনেকটা সস্তায় জ্বালানি তেলে বিক্রি হচ্ছিল বাংলাদেশে। সেই কারণেই পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু প্রবাসী বাংলাদেশিরা কষ্ট করে যে অর্থ উপার্জন করেছেন, তা দিয়ে বিদেশ থেকে আনা জ্বালানি তেল যে বিদেশে পাচার হয়ে যাবে, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশে তেলের দাম কত হল?

যদিও সেই যুক্তি যে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কতটা মানবেন, সেটা সময় বলবে। প্রাথমিকভাবে অবশ্য বিষয়টি ভালোভাবে নেননি অনেকেই। একধাক্কায় তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। ডিজেলের দাম যেমন ১৭.৪ শতাংশ বেড়েছে। আগে এক লিটারের দাম ছিল ১১৫ টাকা। এখন সেটা বেড়ে ১৩৫ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। লিটারপিছু পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ঠেকেছে ১৬০ টাকায়।

 

মন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে তেলের দাম চড়চড়িয়ে বেড়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) উপরে মারাত্মক আর্থিক চাপ পড়ছিল। স্রেফ ছয় মাসেই ২২,০০০ কোটি টাকার মতো লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে তেলের দাম কিছুটা বাড়ানোর পথে হেঁটেছে সরকার। তারপরও লিটারপিছু জ্বালানি তেলে ১৫ টাকার মতো ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেেন মন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *