ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল ও আমেরিকার তুমুল সংঘাতের মাঝে এবার বাংলাদেশ খুলল মুখ। বাংলাদেশের তারেক রহমান সরকারের তরফে নয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঢাকার কণ্ঠে কোন সুর উঠে আসছে?
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইতিমধ্যেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলি হামলায় নিহত খামেনির মৃত্যু গোটা ‘মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার’ সমান। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সহ একাধিক জায়গায় খামেনির মৃত্যু ঘিরে উত্তাল প্রতিবাদ দেখা গিয়েছে। প্রতিবাদে ঢাকার রাস্তায় নামে জামাত-এ-ইসলামিও। মিছিল থেকে জামাত-এ-ইসলামির কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম হুঙ্কার দেন, ইরানে যুদ্ধ বন্ধ না করলে জামায়াতে ইসলামী বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক দেবে তাঁদের দল! এদিকে, এই পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধ নিয়ে তারেক রহমানের সরকার এক বিবৃতি দেয়। সেখানে কুয়েত, আমিরশাহি, জর্ডান, সৌদি আরব সহ বেশ কয়েকটি আরব বিশ্বের দেশে হামলার নিন্দা করা হয়। উল্লেখ্য, ইরানে, ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলার পর, পাল্টা ইরান আশপাশের যে সব দেশে মার্কিন সেনা ঘাঁটি রয়েছে , সেখানে হামলা করে। বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয় দুবাই, বাহারিন, রিয়াধ, আবু ধাবি সহ বহু এলাকা। কুয়েতে হামলার জেরে ৪ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে খবর।
বাংলাদেশ তার বিবৃতিতে বলেছে,’ ইরানে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ ধরনের শত্রুতা অব্যাহত থাকলে তা শুধুমাত্র আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বেসামরিক জনগণের কল্যাণ বিপন্ন করবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং মতবিরোধ নিরসনে কূটনেতিক আলোচনার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।’ এছাড়াও বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ওই অঞ্চলের কিছু দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানায়।’ এদিকে, বাংলাদেশের সরকারের এই বক্তব্য নিয়ে তুমুল সমালোচনার সুর শোনা যায় সেদেশের প্রাক্তন উপদেষ্টা তথা রাজনীতিক আসিফ মহমুদের মুখে। তিনি এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন,’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমেরিকা নিয়ে গেছে। প্রেস রিলিজের শুধু লোগোটা বদলে দিলেই মনে হবে হোয়াইট হাউজ থেকে এসেছে মাশাআল্লাহ। পররাষ্ট্রনীতিতে মাথা উঁচু করে বাঁচার দিন শেষ।’ এদিকে, বাংলাদেশ তার বক্তব্যে জানায়, ‘বাংলাদেশ আশা করে যে, দ্রুততম সময়ে শান্তি বিরাজ করবে এবং এই অঞ্চলজুড়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা শিগগিরই পুনরুদ্ধার হবে।’
