Bolpur Shootout BJP Leader Killed। বোলপুরে ভরসন্ধ্যায় শুটআউট

Spread the love

ভরসন্ধ্যায় গুলির শব্দে চমকে উঠল বোলপুর। শহরের ত্রিশূলাপট্টি এলাকায় এক বিজেপি নেতাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। মৃতের নাম চন্দন ভল্লা। তিনি বোলপুরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ২০১ নম্বর বুথের বিজেপি সভাপতি ছিলেন। রবিবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের কারণেই এই হামলা। যদিও খুনের আসল কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পরিবারের বক্তব্য, রবিবার সন্ধ্যায় ফোন করে চন্দনকে কোথাও ডাকা হয়েছিল। এর পর তিনি ত্রিশূলাপট্টি এলাকায় পৌঁছন। সেখানেই কয়েক জন তাঁকে আটকে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করা হয় তাঁকে। গুলির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন চন্দন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রেও খুব কাছ থেকে গুলি চালানোর কথা জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর আততায়ীদের খোঁজে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার পর দুই ব্যক্তি মুখ ঢেকে একটি বাইকে চড়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। একজন বাইক চালাচ্ছিল এবং পিছনে বসে থাকা ব্যক্তি গুলি চালিয়েছিল বলে এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি। সেই বাইক এবং দুই হামলাকারীর পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

চন্দনের পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, তাঁর সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। তাই রাজনৈতিক কারণেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। চন্দনের ছেলে শুভকান্তিও একই দাবি করেছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক বিরোধই ছিল কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ অন্য সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ। পাশাপাশি হামলাকারীদের গতিবিধি জানতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। কী ভাবে আততায়ীরা ঘটনাস্থলে এল, কত ক্ষণ সেখানে ছিল এবং কোন পথে পালাল, সেই সমস্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

রবিবার রাতে বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ বুন্দেশ জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ওই ব্যক্তি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক চাপানউতোরের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তবে আপাতত পুলিশের নজর হামলাকারীদের শনাক্ত করা এবং খুনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বার করার দিকে। পরিবারের রাজনৈতিক শত্রুতার অভিযোগ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং ঘটনাস্থলের তথ্য মিলিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে। বোলপুরের এই গুলিকাণ্ডের পিছনে ঠিক কী কারণ ছিল, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *