মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিওর সঙ্গে ১৪ জানুয়ারি বৈঠকে বসেছিলেন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন এবং ভিভিয়ান মোটজফেল্ড। তবে সেই বৈঠকে ‘মৌলিক মতানৈক্য’ থেকে গিয়েছে বলে জানিয়েছে ডেনমার্ক। উল্লেখ্য, এই বৈঠকের আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন, গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকান নিয়ন্ত্রণ চাই, তার থেকে কিছু কম হলে তা আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
বৈঠকের পরে লার্স লোকে রাসমুসেন বলেন, ‘আমরা জেডি ভ্যান্স এবং রুবিওর সাথে দেখা করেছি। গ্রিনল্যান্ড এবং আর্কটিক নিরাপত্তা সম্পর্কে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য মন্তব্যের পর আমরা এখানে এসেছি। ডেনমার্ক ইতিমধ্যেই সামরিক সক্ষমতার জন্য তহবিল বাড়িয়েছে। কুকুরের স্লেজ নয়, বরং জাহাজ, ড্রোন, যুদ্ধবিমান ইত্যাদি। এবং আমরা অবশ্যই আরও অনেক কিছু করতে প্রস্তুত। গ্রিনল্যান্ড ১৯৪৯ সাল থেকে ন্যাটোর সদস্য এবং এটি পঞ্চম অনুচ্ছেদের (এই ধারা অনুযায়ী, ন্যাটোর কোনও এক দেশে হামলা হলে তা সবগুলি সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে) আওতাভুক্ত। আমাদের এখনও একটি মৌলিক মতবিরোধ রয়েছে, তবে আমরা দ্বিমত পোষণ করতেও সম্মত।’
এরপর ড্যানিশ বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আলোচনা চালিয়ে যাব, আমরা একটি উচ্চ-স্তরের কর্মী গোষ্ঠী গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি যাতে আমরা একটি সাধারণ পথ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করব। ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে অসম্মান করা হলে তা আমাদের জন্য সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য।’

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের যুক্তি, গ্রিনল্যান্ড যদি আমেরিকার না হয়, তাহলে রাশিয়া বা চিন তা দখল করে নেবে। এদিকে ট্রাম্পের এই ‘ভয়’ দূর করতে ডেনমার্ক এবং ইউরোপের দেশগুলি গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েন করছে। এদিকে ট্রাম্প চাইছে, গ্রিনল্যান্ড যে করেই হোক আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে আসুক। গ্রিনল্যান্ডে ইতিমধ্যেই মার্কিন ঘাঁটি আছে। তবে তাতে ট্রাম্পের মন ভরছে না। এই পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ড দখল করার ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি প্রয়োগেরও ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ তো আবার বলেছেন, ৫০০ বছর আগে ড্যানিশরা কয়েকটা জাহাজ অবতরণ করেছিল বলেই গ্রিনল্যান্ড তাদের হয়ে যায় না।