পাকিস্তানের প্রতিবেশি ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল, আমেরিকার ধুন্ধুমার সংঘাত গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সুপ্রিম নেতা খামেনি প্রয়াত হন। যারপর থেকেই পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা হয়, ক্ষোভে উত্তাল হয়ে পড়েন সেখানের মানুষ, বিক্ষোভ ঠেকাতে গিয়ে ঘটে যায় মৃত্যু। এদিকে, বালোচিস্তান নিয়ে ঘরোয়া অশান্তির মেঘ কাটছে না পাকিস্তানের। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের আগে থেকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সশস্ত্র সংঘাত বেশ কিছুদিন চলেছে। এদিকে, ইরান ইতিমধ্যেই সৌদি আরবে আঘাত হেনেছে, যে সৌদির সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী তৃতীয় কোনও দেশ যদি সৌদি বা পাকিস্তানের মধ্যে কোনও একটিকে হামলা করে, তাহলে তা দুটি দেশের মধ্যে অন্য দেশটিতে হামলার সমান বলে মনে করা হবে! এই পরিস্থিতিতে ঘরে বাইরের চাপ কাটাতে পাকিস্তান গোপনে বড় ছক কষতে পারে বলে অনুমান ভারতের গোয়েন্দা শিবিরের। এমনই দাবি, নিউজ ১৮র রিপোর্টের।
রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তানের গতিবিধি আঁচ করে ভারত তার সন্ত্রাস বিরোধী তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘরে বাইরে চাপ কাটাতে, পাকিস্তান নজর ঘোরানোর চেষ্টায়, কোনও সন্ত্রাসী হামলার পদক্ষেপ করলে, তা ভারত বীজেই নির্মূল করে দেওয়ার তৎপরতায় নিরাপত্তা জোরদার করছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, মুম্বাই, দিল্লি বা জম্মু ও কাশ্মীরকে লক্ষ্য করে পাকিস্তান দ্বারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিষয়ে গোয়েন্দা মূল্যায়ন আগাম সতর্ক করছে দিল্লিকে। ওই প্রতিবেদন বলছে, সূত্রের খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানের ভূখণ্ডে পরিবর্তনশীল গতিশীলতা নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, এবং সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে তীব্র অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে ইসলামাবাদ প্রতিশোধমূলক সন্ত্রাসী তৎপরতার চেষ্টা করতে পারে যা দুই দেশের মধ্যে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা বহন করে।
গোটা দেশ জুড়ে, একাধিক এজেন্সিকে সন্ত্রাস বিরোধী পর্যালোচনা জোরদার করতে বলা হয়েছে। মুম্বইতে, মহারাষ্ট্র ATS র টিম কুরলা এবং গোভান্ডিতে তিনটি পৃথক স্থানে একযোগে অভিযান চালায়। নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতি মৌলবাদী মনোভাব সম্পন্ন সন্দেহের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর কাশ্মীরের পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ঊর্ধ্বতন পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে একটি উচ্চ পর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং জনসাধারণের শান্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
