ইরান যুদ্ধের আবহে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে ৩১ লাখ কোটি টাকা ‘হাওয়া’ হয়ে গেল। এর মধ্যে আজই বিনিয়োগকারীদের ১২ লাখ কোটি টাকা হাওয়া হয়ে গিয়েছে। ইরান যুদ্ধের জেরে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত। শেয়ার বাজারে বিক্রির হিড়িক দেখা গিয়েছে। সেনসেক্স এবং নিফটি৫০-তে ক্রমাগত পতন দেখা গিয়েছে। এদিকে আজ ভারতের মুদ্রার দাম আরও কমেছে ডলারের অনুপাতে।
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের আবহে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা ক্রমেই গ্রাস করছে গোটা বিশ্বকে। একদিকে তেলের দাম বেড়ে চলেছে। অপরদিকে সোনার দামও কমেছে বিগত কয়েকদিনে। আজ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে ইরান যুদ্ধ। এই আবহে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। ব্লুমবার্গের মতে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৮.৭৩ ডলার ছুঁয়ে ফেলেছিল। যা ২০২০ সালের এপ্রিল মাসের পর সর্বোচ্চ। এদিকে টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৩১ শতাংশে লাফিয়ে উঠেছে। সিঙ্গাপুরে সকালে স্পট গোল্ডের দাম ০.৯ শতাংশ কমে ৫১২৪.৪৮ ডলারে নেমেছিল। রুপো প্রতি আউন্সে দাম ১.৬ শতাংশ কমে ৮৩.২২ ডলারে ঠেকেছিল। এদিকে আজ ভারতীয় শেয়ার বাজারে লেনদেন চালু হতেই সেনসেক্স প্রায় ২৪০০ পয়েন্ট পড়ে গিয়েছিল।
আজ একটা সময় সেনসেক্স ৭৬,৫০০ পয়েন্টের নীচে নেমে গিয়েছিল। নিফটি৫০ নেমে গিয়েছিল ২৩,৭০০ পয়েন্টের নীচে। আজ সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, এবং লারসেন অ্যান্ড টুব্রোর শেয়ারে। এই আবহে আজ বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের মার্কেট ক্যাপিটাল ৪৩২ লাখ কোটিতে নেমে এসেছে। আজ ১২ লাখ কোটি টাকা মার্কেট ক্যাপিটাল কমেছিল। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের মার্কেট ক্যাপিটাল ছিল ৪৬৩ লাখ কোটি টাকা। গত ৬ মার্চ বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের মার্কেট ক্যাপিটাল ছিল ৪৪৪ লাখ কোটি টাকা। এই আবহে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের মার্কেট ক্যাপিটাল ৩১ লাখ কোটি টাকা কমেছে।
