মার্কিন-কানাডিয়ান নাগরিক তথা খলিস্তানি জঙ্গি গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ছক কষার মামলায় নিজের দোষ স্বীকার করেছেন ভারতীয় নাগরিক নিখিল গুপ্তা। পান্নুনকাণ্ডে নিখিল গুপ্তাকে চেক প্রজাতন্ত্র থেকে প্রত্যর্পণ করে মার্কিন মুলুকে নিয়ে গিয়েছিল নিউ ইয়র্ক পুলিশ। উল্লেখ্য, মার্কিন নাগরিক খলিস্তানি নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ছক কষার অভিযোগে নিখিলকে গেফতার করা হয়েছিল চেক প্রজাতন্ত্রে। প্রায় একবছর পর চেক পুলিশ তাঁকে তুলে দেয় মার্কিন বিচার বিভাগের কাছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পরে নিখিলকে আদালতে পেশ করা হয়েছিল পান্নুন হত্যার চেষ্টার মামলায়। সেই মামলায় নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছিলেন নিখিল। তবে নিউইয়র্কের দক্ষিণ জেলার অ্যাটর্নি জেনারেল এবার নিশ্চিত করেছেন, এই মামলায় নিজের দায় স্বীকার করেছেন নিখিল।
নিখিল গুপ্তা তিনটি অভিযোগ স্বীকার করেছেন – খুনের জন্য বরাত দেওয়া, অর্থ তছরুপ এবং খুনের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকা। এই তিন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিত সম্মিলিত ভাবে সর্বোচ্চ ৪০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন নিখিল গুপ্তা। মার্কিন বিচারক ভিক্টর মারেরো আগামী মে মাসের ২৯ তারিখ এই মামলায় রায় শোনাবেন নিখিলের বিরুদ্ধে।
প্রসঙ্গত, খলিস্তানি জঙ্গি গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ছকের মামলায় অভিযুক্ত নিখিল। গত ২০২৩ সাল থেকেই চেক জেলে বন্দি ছিলেন তিনি। এই নিখিলের বিরুদ্ধে আমেরিকায় মামলা করা হয়েছে। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই আমেরিকা নিখিলকে তাদের দেশে নিয়ে গিয়ে বিচার সম্পন্ন করতে চেয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ‘খুনের জন্য বরাত দেওয়ার’ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে আমেরিকার আদালতে। ভারত সরকারের এক এজেন্সির আধিকারিকের নির্দেশেই নাকি নিখিল এই কাজ করেন।

মার্কিন অ্যাটর্নি অফিসের তরফে দাবি করা হয়, খলিস্তানি জঙ্গিকে হত্যার জন্য ১ লাখ মার্কিন ডলারের রফা হয়েছিল। অগ্রিম বাবদ ‘আততায়ী’-কে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়া হয়। তবে সেই ‘আততায়ী’ আদতে মার্কিন প্রশাসনেরই ‘আন্ডার কভার এজেন্ট’ ছিল। এরপরই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয় মার্কিন প্রশাসন। পরে ওয়াশিংটনের অনুরোধে চেক প্রজাতন্ত্র গ্রেফতার করেছিল নিখিলকে।ওদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টে সম্প্রতি দাবি করা হয়েছিল, বিকাশ যাদব নামে এক ‘র’ এজেন্ট নাকি পান্নুন হত্যার জন্যে একটি ‘হিট টিমকে’ টাকা দিয়েছিলেন নিখিল। এমনকী রিপোর্টে এও দাবি করা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় নাকি অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন ‘র’ প্রধান সমন্ত গোয়েল। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজি ডোভাল বিষয়টি জানতেন। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের এই প্রতিবেদন খারিজ করে ভারত। এই সবের মাঝেই বিকাশ যাদব নামে এক প্রাক্তন সরকারি কর্মীর নামে ‘ওয়ান্টেড পোস্টার’ জারি করেছিল এফবিআই।