দিদি বনাম ইডি মামলার বৃত্ত শুধু পশ্চিমবঙ্গেই থাকল না, ছড়িয়ে পড়ল দেশে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় একাধিক ‘বৃহত্তর প্রশ্ন’ নিয়ে আলোচনা করা হয়, যেগুলির সমাধান না করলে ভবিষ্যতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বা অরাজকতা তৈরি হতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে যে শীর্ষ আদালত বলেছে, দেশে যাতে আইনের শাসন বজায় থাকে এবং প্রতিটি সংস্থাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। কোনও নির্দিষ্ট রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বর্মের আড়ালে লুকিয়ে থেকে যাতে কোনও অপরাধী রক্ষা না পান, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। সেইসঙ্গে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বৃহত্তর প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। যদি সেটার ফয়সালা না করা হয়, তাহলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। সেক্ষেত্রে অরাজকতা সৃষ্টির মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
‘বর্মের আড়ালে কোনও অপরাধী লুকিয়ে থাকতে পারে?’
সেই রেশ ধরে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এটা ঠিক যে কোনও দলের নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে না কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা। কিন্তু একইসঙ্গে এই প্রশ্নটাও উঠছে যে সৎভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থা যদি গুরুতর অপরাধের তদন্ত করে, তাহলে সেই বর্মের আড়ালে লুকিয়ে কি ওই তদন্তকারী এজেন্সিকে নিজের কাজ করা থেকে আটকানো যায়?
‘সৎ উদ্দেশ্যেই তল্লাশি বলে মেনে নিতে হবে’
তারইমধ্যে বিচারপতি মিশ্র পর্যবেক্ষণ করেন, আর্থিক তছরূপ বিরোধী আইনের ৬৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ইডি যদি অনুমোদনপত্র নিয়ে তল্লাশি চালায়, তাহলে তারা সৎ উদ্দেশ্যেই কাজ করছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

পুলিশি তদন্ত স্থগিত থেকে সিসিটিভি- সুপ্রিম কোর্ট কী কী নির্দেশ দিল?
এমনিতে আজ সবপক্ষের শুনানির পরে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) বিরুদ্ধে যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল, তাতে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যতদিন না পরবর্তী শুনানি হচ্ছে, ততদিন স্থগিত থাকবে পুলিশি তদন্ত। সেইসঙ্গে গত ৮ জানুয়ারি সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিস এবং কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়ির সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ। আর দু’সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিতে হবে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ফের সেই মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছে শীর্ষ আদালত।