NEET Case Chargesheet Report। নিট কাণ্ডে শেষ চার্জশিট এক সপ্তাহের মধ্যে

Spread the love

NEET UG ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় তদন্ত প্রায় শেষ। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই দ্বিতীয় এবং শেষ চার্জশিট জমা দিতে চলেছে সিবিআই। তবে চূড়ান্ত চার্জশিটে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও আধিকারিক বা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির কোনও কর্তার নাম থাকছে না বলেই তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর। এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে সিবিআই। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এনটিএর নিযুক্ত বিষয় বিশেষজ্ঞ, কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, দালাল এবং পরীক্ষার্থীরা।

এই মামলায় প্রথম চার্জশিট জমা পড়েছিল ২৮ জুলাই। সেখানে ১৩ জনের নাম ছিল। তাঁদের মধ্যে এনটিএর নিযুক্ত তিন বিষয় বিশেষজ্ঞও ছিলেন। সিবিআইয়ের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র তৈরির বিভিন্ন ধাপে একই বিশেষজ্ঞদের বার বার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শেষ ধাপে তাঁদের চারটি মাস্টার প্রশ্নপত্রই দেখার সুযোগ ছিল। ফলে অত্যন্ত গোপনীয় প্রশ্নপত্র তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের হাতে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তকারীদের দাবি, কেমিস্ট্রির বিশেষজ্ঞ প্রহ্লাদ ভিথালরাও কুলকার্নি ১৩৫টি প্রশ্ন এবং তার উত্তরগুলির বিকল্প ছোট ছোট কাগজে লিখে গোপন এলাকা থেকে বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন। অন্য দুই বিশেষজ্ঞ মানীষা মন্ধারে এবং মানীষা হাভালদার প্রশ্ন মুখস্থ করে পরে বই দেখে তা ফের তৈরি করেছিলেন বলেও অভিযোগ সিবিআইয়ের। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে তাঁদের যোগ কী ভাবে তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং অন্যান্য নথিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হয়েছে।

প্রথম চার্জশিটের পর আরও তিন জনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। অভিযোগ, কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সুবিধা পেয়েছিলেন তাঁরা। এই তিন জনের ভূমিকা এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার ফলাফলই চূড়ান্ত চার্জশিটে বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হবে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কোনও এনটিএ কর্তা বা কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক যুক্ত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে আলাদা করে তদন্ত করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ মেলেনি।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পরে NEET UG পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। প্রশ্নপত্রের সঙ্গে একটি অনুমানভিত্তিক প্রশ্ন সংকলনের অন্তত ১২০টি প্রশ্ন মিলে যাওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই ঘটনা ঘিরে দেশ জুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সংসদেও বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষার নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়তে থাকে।

এর পর এনটিএর কাজকর্মে বড় বদল আনা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে এনটিএর বেশ কিছু কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরির ব্যবস্থাতেও বদল আনা হয়েছে। প্রায় ৬০০ জন বিষয় বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে নতুন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এবং প্রশ্নপত্র যাচাইয়ের জন্য চার স্তরের ব্যবস্থা চালুর কথাও জানানো হয়েছে।

তবে তদন্তের শেষ ধাপে এসে একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এত বড় একটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শুধুই বাইরের লোকজন দায়ী ছিলেন, নাকি এনটিএর ব্যবস্থার দুর্বলতাও বড় ভূমিকা নিয়েছিল? সিবিআইয়ের চূড়ান্ত চার্জশিটে সরকারি আধিকারিকদের নাম না থাকলেও তদন্তের এই দিকটি নিয়ে বিতর্ক যে থামছে না, তা স্পষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *