Rijiju on CJP-Opposition Protest। ফ্রান্স-বাংলাদেশের মতো হিংসার ছক ভারতে

Spread the love

ভারতে সরকার বদলের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এ বার ফ্রান্স ও বাংলাদেশের উদাহরণ টেনে বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সে যে ধরনের হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, একই ধরনের অস্থিরতা ভারতেও ছড়ানোর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। কয়েক জন রাজনীতিকের সঙ্গে ভারতবিরোধী শক্তি হাত মিলিয়ে যুব সমাজকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এই ষড়যন্ত্রের অভিযোগের সমর্থনে নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি মন্ত্রী।

বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের প্রসঙ্গ কেন?

রিজিজুর এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্ক। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং সরকার বদলের দাবি ঘিরে বিজেপি ও বিরোধীদের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন চলছে।

এই পরিস্থিতিতে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ সরকার বদলের লড়াইয়ের কথা বলার পরেই বিতর্ক আরও বেড়েছে। তাঁর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে বিজেপি। শাসক দলের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আড়ালে অস্থিরতা তৈরি করে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা চলছে।

রিজিজু সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, বাংলাদেশে যে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে এবং ফ্রান্সে যে দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা দেখা গিয়েছে, ভারতের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ভারতবিরোধী গোষ্ঠী এবং কয়েক জন রাজনীতিক একজোট হয়ে তরুণদের উস্কে দিয়ে রাস্তায় হিংসা ছড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে রিজিজুর বক্তব্য, ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এক সময়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। প্রাণহানির পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। ফ্রান্সের পরিস্থিতির সঙ্গেও সেই অস্থিরতার তুলনা টেনেছেন তিনি।

‘বাংলাদেশ বা ফ্রান্স নয় ভারত’

রিজিজুর বক্তব্য, যাঁরা এই ধরনের ষড়যন্ত্র করেছেন, তাঁরা ভুলে গিয়েছেন যে ভারত বাংলাদেশ বা ফ্রান্স নয়। তাঁর দাবি, ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে অস্থির করে তোলার যে কোনও চেষ্টা ব্যর্থ হবে। দেশের ক্ষমতার পরিবর্তন চাইলে তার একমাত্র পথ নির্বাচন। কোনও বিদেশি শক্তি বা ধনকুবেরের মাধ্যমে ভারতে সরকার বদল সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে মার্কিন ধনকুবের জর্জ সরোসের নামও উল্লেখ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

পাল্টা যুক্তি বিরোধীদের

বিজেপির অভিযোগের জবাবে কংগ্রেসের বক্তব্য, গণতন্ত্রে বিরোধীদের কাজ হল সরকারের নীতির বিরোধিতা করা, ভুল তুলে ধরা এবং নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তনের চেষ্টা করা। কংগ্রেস নেতারা দাবি করেছেন, সরকার বদলের কথা বললেই তা অসাংবিধানিক হয়ে যায় না। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিবর্তন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হওয়াই স্বাভাবিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *