নয়া ‘সুদর্শন চক্র’ নিয়ে অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তি পালন করতে চলেছে ভারত। সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী মে’র মধ্যে ভারতের হাতে চতুর্থ এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তুলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাশিয়া। পঞ্চম তথা শেষ এস-৪০০ সিস্টেম ভারতের হাতে ২০২৭ সালের মধ্যে চলে আসবে বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আর যে সময়ের মধ্যে রাশিয়া চতুর্থ এস-৪০০ দেবে বলেছে, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তি
গত বছর মে’তেই অপারেশন সিঁদুর চালিয়েছিল ভারত। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পালটা হিসেবে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের ন’টি জঙ্গি শিবিরে আক্রমণ করেছিল। খতম করা হয়েছিল জঙ্গিদের। আর সেই কষ্টে ভারতের উপরে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু এস-৪০০, আকাশের মতো এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ভেদ করতে পারেনি ইসলামাবাদ। মুখ থুবড়ে পড়েছিল পুরো বিশ্বের সামনে।
২০১৮ সালে এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম কেনার চুক্তি
এমনিতে আরও আগেই ভারতের হাতে এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম চলে আসার কথা ছিল। পাঁচটি এস-৪০০ দূরপাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম কেনার জন্য ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু একাধিকবার বিলম্ব হয়েছে। শেষপর্যন্ত ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রথম স্কোয়াড্রন ‘কার্যকর’ হয়েছিল। আপাতত ভারতের হাতে তিনটি এস-৪০০ সিস্টেম আছে। একটি শিলিগুড়ি করিডরেও মোতায়েন করা হয়েছে বলে একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

ভারতের নিজস্ব আয়রন ডোম
উল্লেখ্য, গত বছর স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে ভারতের নিজস্ব ‘আয়রন ডোম’ তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ভারতের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা উদ্যোগ চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। নাম হবে ‘সুদর্শন চক্র’। এই মিশনের লক্ষ্য হবে ভারতের কৌশলগত, অসামরিক এবং ধর্মীয় স্থানগুলিকে সম্ভাব্য শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করা। এই নতুন অস্ত্র একটি ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেছিলেন, ‘এই সিস্টেমটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জামগুলিকে একত্রিত করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলির চারপাশে বসানো হবে। একটি শক্তিশালী, বহু-স্তরযুক্ত ঢাল তৈরি হবে এতে। ২০৩৫ সালের মধ্যে আমি এই জাতীয় সুরক্ষা ঢালকে প্রসারিত করতে চাই। এটিকে আরও শক্তিশালী এবং এর আধুনিকীকরণ করতে চাই।’