ছোট পর্দার জনপ্রিয়তার পর এবার বড় পর্দায় ফিরছে ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’। সায়ন্তন ঘোষালের পরিচালনায় অভিনেতা সব্যসাচী চৌধুরী-র এই ছবি ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। পূর্বে ঘোষণা করা হয়েছিল যে চলতি বছর কালীপুজোতেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এই ভক্তি ও অলৌকিক রসায়নে তৈরি ছবি। তবে শেষ মুহূর্তে ছবির মুক্তির দিন পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্মাতারা।
মুক্তির তারিখ পরিবর্তন ও নতুন পরিকল্পনা:
প্রথমে কালীপুজোর আবহেই ছবিটি মুক্তি দেওয়ার কথা থাকলেও, কৌশলগত কারণে মুক্তির দিন পেছানো হয়েছে বলে ধারণা টলিপাড়ায়। কেন এই সিদ্ধান্ত?উৎসবের মরশুমে একাধিক বড় বাজেটের ছবির ভিড় এবং ছবির ভিএফএক্স (VFX) ও সাউন্ড ডিজাইনিংয়ের কাজ আরও নিখুঁত করতেই মুক্তির তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রযোজনা সংস্থা সূত্রে খবর। ছবির নতুন মুক্তির দিন খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
মূলত দিওয়ালিতে বড়পর্দায় আসছে রণবীর কাপুরের বহুল চর্চিত ছবি ‘রামায়ণ’। নীতিশ তিওয়ারি পরিচালিত এই ৪০০০ কোটির ছবি ঘিরে দেশজুড়ে উন্মাদনা তুঙ্গে। তাই এই ছবির সঙ্গে হল দখলের লড়াইয়ে এঁটে ওঠা সম্ভব নয়।
ছবিতে সব্যসাচী চৌধুরীর সঙ্গে ‘মা তারা’-র ভূমিকায় অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী পায়েল দে। চরিত্রটিকে বড় পর্দায় বাস্তবসম্মত করতে সব্যসাচী নিজেকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করেছেন এবং এই ছবির জন্য প্রায় ২০ কেজি ওজনও বাড়িয়েছেন।
এর আগে স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’-এ সাধক বামাক্ষ্যাপার চরিত্রে সব্যসাচীর নিখুঁত ও জীবন্ত অভিনয় মন জয় করে নিয়েছিল আপামর বাঙালির। তৎকালীন সময়ে টিআরপি তালিকার শীর্ষে থাকা সেই ধারাবাহিক আজও দর্শকের মনে অমলিন। অন্যদিকে, একই চ্যানেলের ‘সাধক রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকে নাম ভূমিকায় সব্যসাচী এবং মা কালীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন পায়েল দে। ছোটপর্দার সেই হিট জুটিকে এবার ভিন্ন রূপে কিন্তু চেনা ভক্তিভরে পর্দায় ফিরিয়ে আনছে এসভিএফ।

এই ছবি পরিচালনা করছেন সায়ন্তন ঘোষাল। পাশাপাশি, ছবির রচনা ও সৃজনশীল পরিচালনার দায়িত্বেও রয়েছেন সব্যসাচী চৌধুরী নিজেই। ছবির সুর বেঁধেছেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। সব্যসাচী ও পায়েল দে ছাড়াও এই ছবিতে দেখা মিলবে সাহেব চট্টোপাধ্যায়ের। আপতত পর্দায় সাধক বামাক্ষ্যাপার কাহিনি দেখতে বাঙালি দর্শককে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।