কী সাংঘাতিক! ইনস্টাগ্রামে পরিচয় হওয়া একটি অ্যাকাউন্ট থেকে আসা ভিডিও কল তুলে সেক্সটরশন চক্রের শিকার হলেন বছর ২৪-এর শ্রীলঙ্কার নাগরিক। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে বেঙ্গালুরুতে।
পুলিশ সূত্রে খবর, শ্রীলঙ্কার নাগরিক ওই ছাত্র কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ইনস্টাগ্রামের সম্প্রতি তাঁর পরিচয় হয়েছিল এক ব্যক্তির সঙ্গে। ক্রমেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁদের মধ্যে। এরপর ওই ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে ওই ছাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সম্প্রতি ওই যুবককে ভিডিও কল করে তাঁর নেটমাধ্যমের ‘বন্ধু।’ ছাত্রের অভিযোগ, ভিডিও কল চলাকালীন যুবকের কিছু ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি-ভিডিও তুলে রেখে দেয় অভিযুক্ত। এরপরেই ছবিগুলি ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে সে। শুধু তাই নয়, ছবি এবং ভিডিওগুলি মুছে দেওয়ার দাবি করে চেয়ে বসে বিপুল পরিমাণ টাকাও। যখন ওই ছাত্র টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই যুবকের বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের মধ্যে ভিডিওগুলি ফাঁস করে দেওয়ার এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আপলোড করার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ।
এরপরেই ভয় পেয়ে অভিযুক্তের কাছে ৩৬,০০০ টাকা স্থানান্তর করেন শ্রীলঙ্কার নাগরিক। তারপরেও অভিযুক্ত ওই যুবকের কাছে আরও টাকা দাবি করেন। আর টাকা না দিলে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি-ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেয়। শেষ পর্যন্ত মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে এবং প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা খুইয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই যুবক। ইতিমধ্যে ওই যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। জোরদার তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ অসম্মানের ভয়ে কারও কাছে এ সব কথা প্রকাশ করে না। পুলিশের কাছেও যেতে চায় না। এই সুযোগটাই নেয় অপরাধীরা। ভিডিও দেখার পর কোনওক্রমে নিস্তার পেতে চান। সেজন্য টাকা দিতেও কুণ্ঠিত হন না। অনেকে ভয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টও ডিলিট করে দেন। এই ধরনের ঘটনায় ফেঁসে গেলে মাথা ঠান্ডা রাখুন। পুলিশে অভিযোগ করুন। আর অজানা নম্বর থেকে কল ও মেসেজ আসলে গ্রহণ করবেন না।
