ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ক্রমশ কঠিন হচ্ছে আমেরিকার রাজনীতির অঙ্ক। মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক গণনায় একাধিক রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। তাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ট্রাম্পের দলের মধ্যে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ও সেই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। বিশেষ করে উত্তর ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের কাছ থেকে একটি সেনেট আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার। জর্জিয়া এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। সব মিলিয়ে প্রাথমিক ফলের প্রবণতা স্বস্তিতে রাখছে না হোয়াইট হাউসকে। তবে এখনও চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়নি। ভোট গণনা চলছে।
৩ নভেম্বর আমেরিকায় হয়েছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। বুধবার, ৪ নভেম্বর সকাল থেকে শুরু হয়েছে ভোট গণনা। এই নির্বাচনকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্সির মাঝপথে জনমতের পরীক্ষা হিসাবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কারণ, এর ফলের উপর নির্ভর করছে আগামী দু’বছর আমেরিকার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। বর্তমানে হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সেনেট, দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের।
রিপাবলিকানদের ঘাঁটিতেও ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকা
এ বারের নির্বাচনে হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ৪৩৫টি আসন এবং সেনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হয়েছে। পাশাপাশি ৩৬টি প্রদেশে গভর্নর পদেও নির্বাচন হয়েছে। হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত তিনটি আসন বাড়াতে হবে। অন্য দিকে, সেনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে প্রয়োজন চারটি আসনের নিট বৃদ্ধি।
এখনও পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে ডেমোক্র্যাটদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জয় সামনে এসেছে। জর্জিয়ায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে হারিয়ে সেনেটে নিজের আসন ধরে রেখেছেন জন অসফ। নিউ হ্যাম্পশায়ারে জন সুনুনুকে পরাজিত করেছেন ক্রিস পাপাস। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ জয় উত্তর ক্যারোলাইনায়। সেখানে রিপাবলিকান মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়ে সেনেট আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে এনেছেন প্রাক্তন গভর্নর রয় কুপার। ডেলাওয়্যার, নিউ জার্সি, ইলিনয়, ম্যাসাচুসেটস এবং রোড আইল্যান্ডেও সেনেটের একাধিক আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। অন্য দিকে, ফ্লোরিডায় অ্যাশলি মুডি এবং পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় শেলি ক্যাপিটো জয় পেয়েছেন। ফলে সেনেটে লড়াই এখনও শেষ হয়ে যায়নি।
হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের লড়াইয়েও নজর কাড়ছে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি। বেশ কয়েকটি এমন আসনে তাঁদের এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গিয়েছে, যেখানে আগে রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হচ্ছিল। জর্জিয়ার দ্বিতীয় কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট স্যানফোর্ড বিশপ। ভার্জিনিয়ার দশম কেন্দ্র থেকে ফের নির্বাচিত হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুহাস সুব্রহ্মণ্যম। তবে হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ?
এই নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইরান যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি, শুল্কনীতি এবং অভিবাসন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আগের সমীক্ষাতেও দেখা গিয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটারদের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রায় ৬০ শতাংশ আমেরিকান ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মনে করছেন। সেই ক্ষোভের প্রভাব ভোটের বাক্সে পড়েছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষে আইন পাশ করানো কঠিন হয়ে পড়বে। ডেমোক্র্যাটরা হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ পেলে সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারবেন। প্রশাসনের বিরুদ্ধে নজরদারিও বাড়বে। সেনেটের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হলে বিচারপতি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে পারেন ট্রাম্প।
অন্য দিকে, ভোটের ফল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। অতীতে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন ট্রাম্প। এ বারও ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে তাঁর শিবিরের অবস্থান ঘিরে নজর রয়েছে। ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল শুধু কংগ্রেসের ক্ষমতার অঙ্কই বদলাবে না, আগামী দু’বছর আমেরিকার রাজনীতির গতিপথও ঠিক করে দিতে পারে।