শত বিরোধিতা সত্ত্বেও নিজের মত বদলাতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ফ্লোরিডায় ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে ফের একবার ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাত নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প। সেখানেও ট্রাম্পের সেই একই বক্তব্য, ভারত-পাক সংঘর্ষ থামালেও বিন্দুমাত্র কৃতিত্ব মেলেনি তাঁর।
এই প্রথম নয়, এর আগেও বহু বার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করেছেন ট্রাম্প। পাকিস্তান তাঁর সেই দাবিতে সিলমোহর দিলেও, ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকার বরাবর তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কথা অস্বীকার করে আসছে। পাকিস্তানের তরফে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং ভারত তা গ্রহণ করে বলে দাবি নয়া দিল্লির। এই প্রসঙ্গ তুলে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য দাবিদার হিসাবেও নিজেকে তুলে ধরেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শেষ পর্যন্ত নোবেল মেলেনি। তা সত্ত্বেও যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবির পথ থেকে একচুল নড়েননি ট্রাম্প। সোমবারই ট্রাম্পের পাম বিচের বাসভবনে বৈঠকে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। সেই বৈঠকেও ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আটটা যুদ্ধ থামিয়েছি। আজারবাইজানের যুদ্ধ থামার পরে পুতিন নিজেই আমাকে বলেছিল, ‘আপনি কীভাবে এই যুদ্ধ থামালেন, বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি ১০ বছর ধরে চেষ্টা করেছি।’ কিন্তু আমি একদিনেই যুদ্ধ বন্ধ করে দিলাম। ভারত-পাকিস্তানের কথাই বা বাদ যায় কী করে? কিন্তু আমি কী একটুও কৃতিত্ব পেয়েছি? না।’
নেতানিয়াহুর সঙ্গে ওই বৈঠকে ছিলেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষা সচিব পিটার হেগসেথরা। সকলের সামনেই যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব না পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই নিয়ে ট্রাম্প ৭০ বারেরও বেশি দাবি করেছেন যে তিনি চলতি বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে ‘সহায়তা’ করেছেন। বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির দিন থেকেই এই বিষয়ে কৃতিত্ব দাবি করে আসছেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, পহেলগাঁওয়ে নৃশংস হামলার পরে অপারেশন সিঁদুর এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে সামরিক অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, তা থামিয়েছিলেন তিনিই। যদিও ভারত এ বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কথা স্বীকার করেনি। এমনকী সংসদে দাঁড়িয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, কোনও নেতার চাপে অপারেশন সিঁদুর বন্ধ হয়নি। নয়া দিল্লি জানিয়েছে, ১০ মে পাকিস্তানের ডিজিএমও সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ভারত তাতে রাজি হয়েছে।
