তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষের জীবনে আচমকা দুর্ঘটনা। সোমবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ নিজের বাড়ির বাথরুমে পা পিছলে পড়ে যান তিনি। গুরুতর আঘাত লাগে মাথা ও ডান পায়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তড়িঘড়ি তাঁকে ভর্তি করানো হয় সল্টলেকের এক হাসপাতালে। মঙ্গলবার তাঁর অস্ত্রোপচার হবে বলে জানা যাচ্ছে।
বিপত্তিটি ঘটে সোমবার দুপুর দেড়টা নাগাদ। উত্তর কলকাতার গড়পার রোডের বাড়িতে স্নানঘরে ঢুকেছিলেন কুণাল ঘোষ। সেই সময়েই কোনও ভাবে পড়ে যান তিনি। চোটের গুরুত্ব অনুধাবন করে বাড়ির অন্য সদস্যেরাই তাঁকে নিয়ে যান হাসপাতালে। সূত্রের খবর, তৃণমূল নেতার ডান পায়ের হাড় ভেঙেছে। চোট লেগেছে তাঁর মাথাতেও। আপাতত হাসপাতালেই চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন রাজ্য তৃণমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক তথা দলের মুখপাত্র। মঙ্গলবার হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর অস্ত্রোপচার হবে। তবে দল বা পরিবারের তরফ থেকে কুণাল ঘোষের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহল থেকে উদ্বেগের বার্তা আসতে শুরু করেছে।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতা রেফারি ক্লাবের মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়ে পা ভেঙেছিল তৃণমূল নেতার। ওই সময় ভেঙেছিল তাঁর বাঁ পায়ের হাড়। ‘রিপোর্টার্স কাপ’-এর ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধের খেলা চলাকালীন ঘটেছিল বিপত্তি। বাঁ পায়ে চোট লেগেছিল কুণাল ঘোষের। খেলার মাঝপথে মাঠ ছেড়ে সাইডলাইনে গিয়ে বসতে হয়েছিল তাঁকে। প্রথমে সামান্য চোট বলে মনে হলেও পরে যন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়। তখন তাঁকে ভর্তি করানো হয় কলকাতার এক হাসপাতালে। পরে তৃণমূল নেতা জানিয়েছিলেন, তাঁর বাঁ পায়ের ফিবুলাতে ফ্র্যাকচার হয়েছে। পায়ে প্লাস্টারও করতে হয়েছিল তাঁকে। পরে ওই পায়ে অস্ত্রোপচার করে প্লেট বসানো হয়। এবার অন্য পায়েরও হাড় ভাঙল তৃণমূল নেতার। শুধুমাত্র রাজনৈতিক দল নয়, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও যুক্ত কুণাল ঘোষ। বছর ৫৭-র এই রাজনীতিক নিয়মিত সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন ও বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তর দেন। গত কয়েকদিনে এসআইআর আবহে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন তিনি।

একসময় সারদা চিটফান্ড মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার হয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। সেও প্রায় ১১ বছর আগের কথা। প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে ছিলেন তিনি। জেলে থাকাকালীন পরের বছর নভেম্বরে প্রেসিডেন্সির সেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন কুণাল। একুশ নম্বর সেলে মধ্যরাতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন তিনি।