পুজোর পাঁচ দিন কেমন ভাবে যে কেটে গেল তা বোঝাই গেল না। পুজো শেষে মাকে বরণ করে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর রীতি রয়েছে দশমীর দিন। এই দিন সধবা মেয়েরা লাল পাড় সাদা শাড়িতে সেজে ওঠেন। হাতে শাঁখা পলা, সিঁথি ভর্তি সিঁদুর, এইভাবেই বাঙালি নারীদের দেখে অভ্যস্ত সকলে।
তবে এই দিন সধবা মেয়েরা এমন সাজে সাজলেও যাদের বিয়ে হয়নি, তারা শাড়ি পরলেও শাঁখা পলা বা সিঁদুর পরেন না। কিন্তু চলতি বছর অভিনেত্রী জেসমিন রায়কে শাখা পলা পরে মাকে বরণ করতে দেখা যায়। অভিনেত্রীর এই ছবি দেখে খুব স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা।
লাল পাড় সাদা শাড়িতে রীতিমতো নতুন বধুর মতো দেখতে লাগছিল অভিনেত্রীকে। অনেকেই মনে করেছেন, দুর্গাপুজোর আগেই তাহলে হয়তো চুপিচুপি বিয়ে সেরেছেন অভিনেত্রী। কেউ কেউ আবার বিয়ে না করে এইভাবে শাঁখা পলা করায় অভিনেত্রীকে কটাক্ষ করেছেন।
একজন লিখেছেন, তুমি শাঁখা পলা পড়ছো বুঝলাম না? হিন্দু মতে বিয়ে হলে শাখা পলা পড়ে, তাহলে তুমি তো… অন্য একজন লিখেছেন, শাঁখা পলা কি এখন ফ্যাশন হয়ে গিয়েছে? কেউ জানিও। তৃতীয় একজন লিখেছেন, এতই শাঁখা পলা পরার ইচ্ছে তো বিয়েটা করে নিন না। বিবাহিত বাঙালি মেয়েদের এই আভূষণ নিয়ে না হয় ছেলে খেলা নাই করলেন। আপনারা সেলিব্রিটি বলে ফ্রেন্ড সেট করতে গিয়ে দেখছি। বাঙালি ঐতিহ্যকে একদম উচ্ছন্নে পাঠাচ্ছেন।

এই সমস্ত মন্তব্যের মধ্যেই এবার মুখ খুললেন অভিনেত্রী জেসমিন। সম্প্রতি আজকাল ডট ইনকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, ওগুলো মোটেই শাঁখা পলা নয়। ওরকম দেখতে লাল সাদা চুড়ি। প্রতি বছর এই প্রশ্নটা সবাই করেন, তাই খুব একটা গুরুত্ব দেই না। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া এই সমস্ত কথা সত্যি আমাকে ভাবায়। কে কি পরবেন সেটা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, এই ব্যাপারে মন্তব্য করার কোনও মানেই হয় না।
প্রসঙ্গত, ‘ত্রিনয়নী’, ‘গাঁটছড়া’, ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’, ‘পান্ডব গোয়েন্দা’, ‘জয় কালী কলকাতাওয়ালী’, ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’, ‘দ্বিতীয় বসন্ত’, ‘রূপকথা’, ‘আরব্য রজনী’ সহ বহু ধারাবাহিককে অভিনয় করেছেন তিনি।