বার্লিনে উন্নত দেশগুলির ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক পীযূষ গোয়েল

Spread the love

Climate Crisis: বিশ্বজুড়ে চলা জলবায়ু সংকটের জন্য উন্নত দেশগুলিকেই সরাসরি কাঠগড়ায় তুললেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। বায়ুমণ্ডলে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের জন্য উন্নত বিশ্বের দেশগুলিকে দায়ী করে তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে তারা পরিবেশের সর্বনাশ ডেকে এনেছে, অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে যে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছিল, তা পূরণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

জার্মানিতে ‘বার্লিন গ্লোবাল ডায়ালগ’-এর এক গোলটেবিল বৈঠকে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে পীযূষ গোয়েল প্রশ্ন তোলেন, ‘প্রথমত পরিবেশের এই চরম বিপর্যয়ের জন্য দায়ী কে? ওজোন স্তর কোথায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে? বায়ুমণ্ডলে এই বিপুল পরিমাণ কার্বন কে ছেড়েছে?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৭ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করি, অথচ কার্বন নিঃসরণে আমার (ভারতের) অবদান ৩ শতাংশেরও কম। অন্যদিকে আপনারা (ইউরোপ) সম্ভবত বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র ৩ বা ৪ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করেন, অথচ কার্বন নির্গমন এবং এই সংকটের পেছনে আপনাদের ভূমিকা বিপুল। এই সমস্যাটি আপনারাই তৈরি করেছেন।’

জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে এবং কার্বন নির্গমন কমাতে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে উন্নত দেশগুলির তরফে দেওয়া আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি বা ‘ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ নিয়ে টানাপোড়েনের আবহেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই চাঁচাছোলা আক্রমণ সামনে এল। ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু মোকাবিলার সিংহভাগ খরচ বহন করতে এবং উন্নয়নশীল দেশ-সহ ঝুঁকিপূর্ণ প্রশান্ত ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্রগুলিকে আর্থিক মদত দিতে রাজি হয়েছিল উন্নত দেশগুলি। পীযূষ গোয়েল বলেন, ‘এই বিষয়ে সহমত হয়েছিল যে উন্নত দেশগুলি, যারা দশকের পর দশক ধরে পরিবেশের ক্ষতি করে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছে, তারাই এর সবচেয়ে বড় মূল্য দেবে। প্রতিশ্রুতি ছিল বছরে মাত্র ১০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার।’ সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এগারো বছর পরেও আমরা তার এক পয়সাও পাইনি। সবই ছিল শুধু প্রতিশ্রুতি।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু অর্থায়ন নীতি এবং নির্দিষ্ট আমদানির ওপর কার্বন-সংক্রান্ত বাড়তি শুল্ক চাপানোর ‘কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম’ (CBAM)-এর অবস্থান নিয়েও কড়া প্রশ্ন তোলেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে উন্নত দেশগুলি বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিলের লক্ষ্যমাত্রা প্রথম নির্ধারণ করেছিল এবং ২০২০ সালের মধ্যে তা পূরণের লক্ষ্য ছিল। পরবর্তীকালে প্যারিস চুক্তির আওতায় এই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৫ পর্যন্ত করা হয়। ইউরোপের সঙ্গে ভারতের মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণের পরিমাণের স্পষ্ট তুলনা টেনে উন্নত দেশগুলির বাড়তি দায়িত্ব নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন পীযূষ গোয়েল। তিনি বলেন, ‘আজও এখানে বসে যদি হিসাব করা যায়, তবে আপনাদের তুলনায় আমার দেশের মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণ হয়তো ১০ থেকে ১৫ শতাংশেরও কম। আজও ইউরোপের মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণ এবং পরিবেশের ওপর তার মাথাপিছু প্রভাব ভারতের তুলনায় প্রায় সাত থেকে আট গুণ বেশি।’ তিনি স্পষ্ট জানান, বিপুল জনসংখ্যার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার এক কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে ভারতকে।

যদিও ওইসিডি (OECD)-র এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে উন্নত দেশগুলি নির্ধারিত সময়সীমার দুই বছর পর ২০২২ সালে যৌথভাবে এই ১০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিলের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়েছে। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলি তহবিল বণ্টনের স্বচ্ছতা, তহবিলে সহজে প্রবেশাধিকার এবং অনুদানের বদলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঋণের ওপর নির্ভরতা নিয়ে লাগাতার প্রশ্ন ও উদ্বেগ প্রকাশ করে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *