Arunachal Border India-China Face-off: অরুণাচল সীমান্তের একাধিক জায়গায় এখনও চিনের সঙ্গে ‘ফেস-অফ’ বা মুখোমুখি সংঘাত চলছে বলে জানালেন আইটিবিপির ডিজি শত্রুজিৎ সিং কাপুর। সেইসঙ্গে তিনি এটাও জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যাতে আরও ভালোভাবে গালওয়ানের মতো সংঘর্ষের মোকাবিলা করা যায়, সেজন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপ করা হয়েছে। ভারতের ‘সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ’ চিনের মোকাবিলা করতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর তৈরি করা হয়েছে ‘ড্রোন প্লাটুন’। ‘শৌর্য’ কমান্ডোদের বিশেষ টিম তৈরি করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় জোরকদমে বাঙ্কার তৈরির কাজও চলছে বলে জানিয়েছেন আইটিবিপির ডিজি।
‘চিরাচরিতভাবে’ চিনের মোকাবিলা করা যাবে না, মত ITBP শীর্ষকর্তার
রাজস্থানের আলওয়ারে ইন্দো-টিবেটিয়ান বর্ডার পুলিশের (আইটিবিপি) ৬৫ তম প্রতিষ্ঠা দিবসে নিজের বাহিনীর উদ্দেশ্যে বার্তা দেওয়ার সময় তিনি জানিয়েছেন, চিন হল ভারতের জন্য ‘সবথেকে কঠিন’ সীমান্ত এবং ‘শক্তিশালী’ প্রতিবেশী। যারা চিনা সেনার আধুনিকীকরণে বড় মাত্রার বিনিয়োগ করেছে। সেই পরিস্থিতিতে ‘চিরাচরিতভাবে’ চিনের মোকাবিলা করা যাবে না। বরং আধুনিক যুদ্ধ কায়দায় মোকাবিলা করতে হবে বেজিংকে। সেজন্য বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তোলা, আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার, উন্নতমানের বর্ডার পোস্টের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। টাকাও দিচ্ছে ভারত সরকার।
ড্রোনের উপরে জোর ITBP-র ডিজির
সেই রেশ ধরে ড্রোনের উপরে জোর দিয়েছেন আইটিবিপির ডিজি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, আধুনিক জগতে ড্রোন এতটাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে যে বড়-বড় রাষ্ট্রকেও টেক্কা দিচ্ছে তুলনামূলকভাবে দুর্বল ও ছোটো দেশ। সেটার কারণে আইটিবিপিকেও ড্রোন প্রযুক্তির (ড্রোন এবং ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তি) সঙ্গে মানিয়ে দিতে।

গালওয়ানের মতো ঘটনার মোকাবিলায় কী কী করা হল?
আর সেই কারণে সরকারের থেকে টাকাও এসে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইটিবিপির ডিজি। তিনি জানিয়েছেন, ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার নিরাপত্তার জন্য ১৯৬২ সালে যে বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল, সেই আইটিবিপিকে ইতিমধ্যে ৪০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। তার ৭০ শতাংশ অর্থই খরচ করা হবে ৯৫,০০০ জওয়ান-বিশিষ্ট বাহিনীর ড্রোন খাতে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য। আগামিদিনে আরও অর্থ আসছে।
১) সীমান্তে দায়িত্বে থাকা প্রতিটি ব্যাটেলিয়নে ড্রোন প্লাটুন থাকবে। সেজন্য ড্রোন পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তৈরি করা হচ্ছে ড্রোন।
২) আইটিবিপি জওয়ানদের প্রশিক্ষণের জন্য ‘স্ট্রাইক’ নামে একটি নয়া কোর্স চালু করা হয়েছে। যা গালওয়ানের মতো পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে জওয়ানদের দক্ষতা আরও বাড়িয়ে তুলবে। ২০২৭ সালের মধ্যে পুরো বাহিনীই সেই কোর্স সম্পূর্ণ করে ফেলবে।
৩) শৌর্য কমান্ডো নামে একটি নয়া কমব্যাট টিম তৈরি করা হয়েছে। যে দল ইতিমধ্যে অরুণাচল সীমান্তের একাধিক অঞ্চলে চিনা সেনার সঙ্গে চলা সংঘাতের সময় নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।