গুয়াহাটির হোটেলে ৫ জনকে মারা ঘনকান্ত গগৈ মৃত এনকাউন্টারে

Spread the love

গুয়াহাটির বিলাস ইন হোটেলে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের মৃত্যু হল পুলিশের গুলিতে। বুধবার ভোরে অসমের শিবসাগর জেলার ফুলপানিসিগা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন ঘনকান্ত। এমনকি এক পুলিশ আধিকারিকের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এর পরেই শুরু হয় ধস্তাধস্তি। সেই সময় তিন রাউন্ড গুলি চলে। এক পুলিশ আধিকারিক গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। তাতেই গুলিবিদ্ধ হন ঘনকান্ত। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার ভোর ৩টে ১০ মিনিট নাগাদ। ফুলপানিসিগা এলাকায় রংমন ধাবার কাছে জাতীয় সড়কের পাশে এই ঘটনা ঘটে। শিবসাগর পুলিশের একটি দল গুয়াহাটি থেকে ঘনকান্তকে নিয়ে যাচ্ছিল। শিবসাগরের একটি পৃথক মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা ছিল। সেই সময়ই এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শিবসাগরের পুলিশ সুপার পাপরি চেতিয়া।

কী ঘটেছিল পুলিশের গাড়িতে?

শিবসাগরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ঘনকান্তকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের জন্য গরিসাগরের নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পুলিশকে তিনি জানিয়েছিলেন, ওই এলাকায় অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সেই অস্ত্র উদ্ধারে সাহায্য করবেন। কিন্তু যাওয়ার পথে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

পুলিশের দাবি, ঘনকান্তের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ ছিল। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই তদন্তকারী আধিকারিকের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। ধস্তাধস্তির সময় ওই রিভলভার থেকে তিন রাউন্ড গুলি চলে। তাতে এক পুলিশকর্মী গুরুতর আহত হন। তাঁকে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর পর শিবসাগর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক নিজের সার্ভিস অস্ত্র থেকে গুলি চালান। পুলিশের বক্তব্য, ঘনকান্তকে আটকানো এবং আহত পুলিশকর্মীকে রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঘনকান্তকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় পুলিশের গাড়িতেও গুলি লাগে। আরও এক আধিকারিক সামান্য আহত হয়েছেন।

ছয়টি মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন ঘনকান্ত

পুলিশের দাবি, ঘনকান্তের বিরুদ্ধে মোট ছ’টি মামলা ছিল। তার মধ্যে একটি মামলার সূত্রেই তাঁকে শিবসাগরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অভিযোগ, একটি এক্সকাভেটর কেনার জন্য পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিতে জাল নথি জমা দিয়েছিলেন তিনি। ব্যাঙ্ক নথি যাচাই করতে গিয়ে অসঙ্গতি খুঁজে পায়। এর পরেই অভিযোগ দায়ের করা হয়।

শিবসাগর পুলিশের দাবি, এই মামলায় আদালতের কাছ থেকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই গুয়াহাটি থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

২৬ অক্টোবর পাঁচজনকে খুনের অভিযোগ

গত ২৬ অক্টোবর গুয়াহাটির উলুবাড়ি এলাকার বিলাস ইন হোটেলে ভয়াবহ গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। তাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন ছিলেন। হোটেলের মালিকপক্ষের সদস্য ভুদেব ভরালি, তাঁর বোন হেলেনা ভরালি, হেলেনার ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ এবং পুত্রবধূ রিনিকা কাশ্যপের মৃত্যু হয়। প্রাণ হারান পরিবারের কর্মী নারায়ণ দাসও। গুলিতে আহত হন আরও এক ব্যক্তি।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছিল, হোটেলের লিজ এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে ভরালি পরিবারের সঙ্গে ঘনকান্তের বিবাদ চলছিল। সেই বিবাদ থেকেই গুলিচালনা বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। ঘটনার পর বশিষ্ঠ থানায় আত্মসমর্পণ করেন ঘনকান্ত। তাঁর কাছ থেকে একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৩২ বোরের পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছিল।

সাত দিনের পুলিশি হেফাজত শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার তাঁকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। তার পরেই শিবসাগরের পৃথক মামলায় তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। ঘনকান্তের মৃত্যুর পর পুলিশি হেফাজতে গুলির পরিস্থিতি কী ভাবে তৈরি হল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। আপাতত গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।

Leave a Reply