চোরবাগানকাণ্ডের পর সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো বন্ধ থাকবে? ‘সেই মানসিকতা নেই’

Spread the love

চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর রেশ কাটেনি। তার মধ্যেই প্রশ্ন উঠল, এ বার কি বন্ধ থাকবে কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় পুজো সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার? পুজোর উদ্যোক্তা তথা বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের মন্তব্যে সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। রবিবার সকালে মৃতদের দেখতে মর্গে পৌঁছেছিলেন তিনি। তার আগে সমাজমাধ্যমে লাইভ করে দর্শনার্থীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আবেদন জানান সজল। তাঁর কথায়, ‘‘আজ খুলব কি না জানি না। সেই মানসিকতাই নেই।’’ চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার পর উৎসবের আনন্দে সামিল হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।

‘এমন পুজো যেন আর দেখতে না হয়’

শনিবার রাতে চোরবাগানে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্ক তৈরি হয় কলকাতার পুজোমণ্ডপগুলিতে। ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ১৯ জন। আহত হন আরও অনেকে। এই ঘটনার পরেই সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের উদ্যোক্তা সজল আবেদন জানান, যাঁরা ঠাকুর দেখতে এসেছেন, তাঁরা যেন বাড়ি ফিরে যান।

রবিবার সকালে মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে সজল বলেন, ‘‘এরকম পুজো যেন আর জীবনে না দেখতে হয়।’’ দুর্ঘটনার জন্য কে বা কারা দায়ী, তা খুঁজে বার করার দায়িত্ব সরকারের বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার নেপথ্যে কোনও গাফিলতি থাকলে তদন্ত করে তা প্রকাশ্যে আনতে হবে।

সজল জানান, শনিবার চোরবাগানের ঘটনার পর সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের মণ্ডপের দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন উদ্যোক্তারা। মাইকে ঘোষণা করেও দর্শনার্থীদের সরানো সহজ হয়নি। পরে মাইক বন্ধ করে দেওয়া হলেও কয়েক জন দর্শনার্থী আপত্তি জানান বলে দাবি তাঁর। এই পরিস্থিতিতে রবিবার মণ্ডপ খোলা হবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন উদ্যোক্তারা।

আলো-শব্দের প্রদর্শনীতেও নিয়ন্ত্রণ

চোরবাগানের ঘটনার পর সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক হয়েছে কলকাতা পুলিশ। পুলিশের বিশেষ দল মণ্ডপের আলো ও শব্দের প্রদর্শনী বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে পুজো উদ্যোক্তারা সম্পূর্ণ বন্ধ না করে প্রদর্শনীর সময় কমানোর আবেদন জানান। আপাতত সেই আবেদন মেনে নেওয়া হয়েছে বলে খবর।

তবে পুলিশের স্পষ্ট বার্তা, আলো ও শব্দের প্রদর্শনী চলাকালীন কোনও সমস্যা তৈরি হলে তা বন্ধ করে দিতে হবে। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোয় এ বার ‘বন্দেমাতরম’ থিম দেখতে গত কয়েক দিনে বিপুল ভিড় জমেছে। ফলে দর্শনার্থীদের নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে পুলিশ।

উৎসবের আনন্দে শোকের ছায়া

চোরবাগানের দুর্ঘটনা কলকাতার বড় পুজোগুলির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পুজোমণ্ডপে কত মানুষ ঢুকতে পারবেন, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ যথেষ্ট প্রশস্ত কি না, অতিরিক্ত ভিড় হলে কী ভাবে পরিস্থিতি সামলানো হবে, সেই বিষয়গুলি এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো এ বার আদৌ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। সজলের মন্তব্যে স্পষ্ট, চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন উদ্যোক্তাদের একাংশও। উৎসবের মরসুমে এমন প্রাণহানির ঘটনা তাঁদেরও নাড়িয়ে দিয়েছে। এখন নজর উদ্যোক্তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং পুলিশের নির্দেশিকার দিকে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, চোরবাগানের বিপর্যয়ের পর এ বারের দুর্গাপুজোয় আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তার প্রশ্নও বড় হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *