চোরবাগানের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরেই সতর্ক রাজ্য প্রশাসন। কলকাতার গণ্ডি পেরিয়ে এ বার রাজ্যের সমস্ত পুজোমণ্ডপের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ। ভবানী ভবনে জরুরি বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে হাজির রাজ্য পুলিশের ডিজি, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ আইপিএস পদমর্যাদার সমস্ত আধিকারিক। পুজোর ভিড় সামলানোর ব্যবস্থা থেকে শুরু করে মণ্ডপে ঢোকা ও বেরোনোর পথ, সব কিছু নিয়েই আলোচনা চলছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। চোরবাগানের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে রাজ্যের অন্য কোথাও না হয়, তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
কলকাতার পাশাপাশি নজরে জেলা
চোরবাগানের দুর্ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে। সেই পরিস্থিতিতে কলকাতার পাশাপাশি জেলার পুজোগুলির ব্যবস্থাপনা নিয়েও সতর্ক হতে চাইছে প্রশাসন। ভবানী ভবনের বৈঠকে বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
কোনও মণ্ডপে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড় হচ্ছে কি না, প্রবেশ এবং বেরোনোর পথ যথেষ্ট প্রশস্ত কি না, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে কি না, সেই সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জনপ্রিয় পুজোগুলিতে ভিড় সামলানোর পরিকল্পনা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
পুজোর সময় বহু মণ্ডপে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়। কোথাও রাস্তা সরু। কোথাও আবার প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ কাছাকাছি। ফলে আচমকা ভিড় বেড়ে গেলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই আগে থেকেই সম্ভাব্য ঝুঁকির জায়গাগুলি চিহ্নিত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে পর্যালোচনা
ভবানী ভবনের বৈঠকে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্তাদের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে।

কোনও পুজোমণ্ডপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দ্রুত পদক্ষেপ করার মতো ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা-ও পর্যালোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বাহিনী পাঠানো সম্ভব কি না, সে দিকেও নজর দেওয়া হতে পারে।
তবে বৈঠকে ঠিক কী কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও নতুন নির্দেশিকা জারি করা হবে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।
চোরবাগানের ঘটনার পর বাড়তি সতর্কতা
চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণহানির পর পুজোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। শুধু কলকাতা নয়, জেলার বড় পুজোগুলিতেও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। উৎসবের আনন্দ যাতে আর কোনও বিপর্যয়ে পরিণত না হয়, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনের এই তৎপরতা বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন নজর ভবানী ভবনের বৈঠকের সিদ্ধান্তের দিকে। রাজ্যের সব পুজোমণ্ডপের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও নতুন নির্দেশ দেওয়া হয় কি না, তা জানার অপেক্ষায় প্রশাসনিক মহল। চোরবাগানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগাম সতর্কতাই এখন রাজ্য প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।