চোরবাগানকাণ্ডে নিহতদের বাড়ি যাবেন শুভেন্দু! নবমী-দশমীতে স্বজনহারাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ

Spread the love

চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর স্বজনহারা পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবমী ও দশমীর দিন নিহতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। রবিবার ভবানী ভবনে উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকের পর এই কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, দুর্ঘটনার তদন্ত যাতে নিরপেক্ষ ভাবে হয়, সেই আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। তদন্তকারী দলে কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং কলকাতা পুরসভার কোনও প্রতিনিধি থাকবেন না বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, এই ব্যবস্থার ফলে তদন্তের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

নিহতদের পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী

শনিবার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় প্রাণহানির পর থেকেই শোকের আবহ শহর জুড়ে। বহু পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয়জনকে। সেই পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে চান মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২০ ও ২১ অক্টোবর, অর্থাৎ নবমী ও দশমীর দিন তাঁদের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুজোর মধ্যে সাধারণ মানুষের অসুবিধা না করে যতগুলি পরিবারের কাছে পৌঁছনো সম্ভব, তিনি যাবেন। দূরের জেলাগুলিতে যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হতে পারে। কাছাকাছি এলাকার জন্য গাড়িতেই যাবেন তিনি।

দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই কাজে ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার আধিকারিকদের রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে ২৫ জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তদন্তে কলকাতা পুলিশ, দমকল ও পুরসভা নেই

চোরবাগানের দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বার করতে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টের এক বিচারপতির নেতৃত্বে এই তদন্ত হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। রবিবার ভবানী ভবনে জরুরি বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, সিটে কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং কলকাতা পুরসভার কোনও প্রতিনিধি থাকবেন না।

তদন্তের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি। মণ্ডপের নিরাপত্তা, দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথের ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে তদন্তকারী দল।

চোরবাগানের ঘটনায় ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার জন্য বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করা হবে। কী ভাবে ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, নিরাপত্তার ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভবানী ভবনে শীর্ষ আধিকারিকদের বৈঠক

চোরবাগানকাণ্ডের পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ভবানী ভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক এবং কলকাতা পুলিশের কর্তারাও। দুর্ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে।

উৎসবের মরসুমে এমন বিপর্যয় যাতে আর কোথাও না ঘটে, তা নিশ্চিত করা এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন নজর সিটের তদন্তের দিকে। দুর্ঘটনার জন্য কারও গাফিলতি দায়ী কি না, তা তদন্ত শেষেই স্পষ্ট হবে। অন্য দিকে, স্বজনহারা পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিতে চান মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *