ভারতকে পরমাণু বোমা মারার হুমকি পাক সেনা কমান্ডারের

Spread the love

ভারতের কড়া বার্তার পরেই পাল্টা হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের। পরমাণু অস্ত্রের প্রসঙ্গ তুলে ভারতকে সতর্ক করলেন পাকিস্তানের ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের প্রধান জেনারেল সৈয়দ আমির রাজা। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পদক্ষেপ করা হলে তার জবাব হবে প্রত্যাশার বাইরে। তবে একই সঙ্গে তাঁর দাবি, পাকিস্তান সংঘাত চায় না। দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সেনাবাহিনী প্রস্তুত। দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক চাপানউতোরের আবহে তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

‘ভুল পদক্ষেপের ফল ভুগতে হবে’

রবিবার পাকিস্তানের কাকুলে মিলিটারি অ্যাকাডেমির পাসিং-আউট প্যারেডে বক্তব্য রাখছিলেন জেনারেল রাজা। নবীন সেনা আধিকারিকদের সামনে তিনি বলেন, পাকিস্তানের সীমান্তের ওপার থেকে যারা শত্রুতার মনোভাব নিয়ে এগোতে চাইছে, তাদের বিষয়ে ইসলামাবাদের অবস্থান স্পষ্ট। পরমাণু অস্ত্রের উপস্থিতিতে সংঘাত বা যুদ্ধের কোনও জায়গা নেই। কেউ ভুল পদক্ষেপ করলে এমন পাল্টা পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে, যা তাদের কল্পনা বা প্রত্যাশারও বাইরে।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষা করতে প্রস্তুত বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে একদিকে সামরিক প্রস্তুতির কথা রয়েছে, অন্যদিকে পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের বিপদ সম্পর্কেও সতর্কবার্তা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনও সামরিক অভিযানের ঘোষণা করেননি তিনি। পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারেরও কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা জানাননি।

রাজনাথের বার্তার পরেই পাল্টা হুঁশিয়ারি

জেনারেল রাজার বক্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সাম্প্রতিক মন্তব্য। গত ১৫ অক্টোবর দিল্লির একটি প্রতিরক্ষা সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান থেকে নতুন করে কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলা হলে তার জবাব আরও কঠোর হবে। তাঁর কথায়, শুধু কূটনৈতিক প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ নেই ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী নীতি। সন্ত্রাসের উৎসে পৌঁছে ব্যবস্থা নেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে নয়াদিল্লি।

এই প্রসঙ্গে অপারেশন সিঁদুর, বালাকোটে বিমান হামলা এবং সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের উদাহরণও তুলে ধরেন রাজনাথ। তাঁর বার্তা ছিল, ভারত শান্তিতে বিশ্বাস করে। কিন্তু সেই শান্তিকে দুর্বলতা বলে মনে করা উচিত নয়। দেশের নিরাপত্তা এবং স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত ভারত।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের পাল্টা অবস্থান সামনে এসেছে। দুই দেশের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ এবং তার জবাবে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে উত্তেজনা যে এখনও রয়েছে, তা স্পষ্ট এই বাকযুদ্ধে।

কাশ্মীর নিয়েও পুরনো অবস্থানে ইসলামাবাদ

বক্তব্যে কাশ্মীর প্রসঙ্গও তুলেছেন জেনারেল রাজা। তাঁর দাবি, কাশ্মীর একটি অমীমাংসিত আন্তর্জাতিক বিষয়। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের আওতায় এই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সীমান্তের ওপার থেকে অনুপ্রবেশও বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের এই সামরিক কমান্ডার। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা তুলে ধরে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের উদ্যোগের দাবি করেন তিনি। প্যালেস্তিনীয়দের মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করারও আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *