প্রেমিককে গুলি করে খুন পরিবারের! নিথর দেহের সঙ্গে বিয়ে প্রেমিকার

Spread the love

এ যেন কোনও সিনেমার দৃশ্য। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও ভালোবাসার মানুষকে বেছে নিয়েছিলেন এক তরুণী। কিন্তু পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে সেই মানুষটিকেই খুন করে তরুণীর বাড়ির সদস্যরা বলে অভিযোগ ৷ অবশেষে পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে সেই মৃত প্রেমিককে বিয়ে করলেন তরুণী ৷ আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে মহারাষ্ট্রে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের নান্দেদের পুরনো গঞ্জ এলাকায় ৷ মৃত যুবকের নাম সক্ষম টাটে ৷ তিন বছর ধরে আঁচল মামিলওয়ার নামে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল ৷ সক্ষম ভিনজাতের হওয়ায় প্রথম থেকেই সম্পর্কের বিরোধিতা করে আঁচলের পরিবার ৷ অভিযোগ, বোনের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সক্ষমকে বেশ কয়েকবার হুমকিও দেয় আঁচলের ভাই ৷ কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা নাগাদ তরুণীর বাবা ও ভাই তাঁকে খুন করে বলে অভিযোগ ৷ জানা গিয়েছে, আঁচলের দাদার বন্ধু ছিল সক্ষম ৷ সেই সুবাদে তাঁদের বাড়ি আসা-যাওয়া ছিল ৷ ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ৷ বিষয়টি জানাজানি হতেই সম্পর্কের বিরোধিতা করে আঁচলের পরিবার ৷ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সক্ষমের বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়ে আসেন মেয়েটির মা ৷ অভিযোগ, এর কিছুক্ষণ পর সক্ষমকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর ও গুলি করে খুন করে আঁচলের বাবা গজানন মামিলওয়ার, ভাই সাহিল-সহ হিমেশ মামিলওয়ার ৷

ঘটনাটি ঘটার পরই প্রেমিকের বাড়িতে পৌঁছন আঁচল ৷ সেই সময় সক্ষমের শেষকৃত্য চলছিল। সেখানে সকলের সামনে সক্ষমের নিথর হাত দিয়ে কপালে সিঁদুর পড়ে নেন আঁচল ৷ একই সঙ্গে সক্ষমের বাড়িতে বাকি জীবন থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। অন্যদিকে, মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে ইতওয়ারা থানার পুলিশ ৷ ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করা হয় ৷ নান্দেদের ডিএসপি প্রশান্ত শিন্ডে বলেন, ‘খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে ৷ তদন্ত চলছে ৷ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷’ অন্যদিকে, প্রেমিককে হত্যার অভিযোগে পরিবারের সকলের কঠোর সাজার আবেদন করেছেন আঁচল ৷ তিনি বলেন, ‘সক্ষমের সঙ্গে আমার ৩ বছরের সম্পর্ক ছিল ৷ কিন্তু, আমার পরিবার কোনও দিন এই সম্পর্কটি মেনে নেয়নি ৷’ পুলিশ সূত্রে খবর, সক্ষম এবং আঁচলের পরিবারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ রয়েছে থানায় ৷ আঁচল আরও বলেন, ‘সক্ষম জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকেই তাঁকে খুন করার পরিকল্পনা করছিল আমার পরিবার ৷ আমাকেও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় ৷’ এরপর জোর গলায় আঁচল বলতে থাকেন, তিনি বিয়ে করেছেন কারণ সক্ষম মারা গেলেও তাঁদের ভালোবাসা এখনও বেঁচে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *