রাজ্যে কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়াতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ শুভেন্দুর

Spread the love

রাজ্যে কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়াতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিনের ‘শিল্প খরা’ কাটিয়ে বিনিয়োগ টানতে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করেছে রাজ্য প্রশাসন। এই নীতিতে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের বন্ধ বা রুগ্ন কারখানাগুলিকে নতুন জীবনদান এবং নতুন শিল্পদ্যোগকে স্বাগত জানানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের ভবিষ্যৎ জমিনীতি এবং সিঙ্গুরের শিল্প পরিকাঠামো পুনরুজ্জীবিত করা নিয়ে বড় ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।

নিউটাউনে রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী(CM Suvendu Adhikari)। শিল্পনীতি প্রকাশ করে সংক্ষিপ্ত ভাষণে বাংলায় বিনিয়োগ টানার বার্তা দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিঙ্গুর নিয়ে কিছুটা একটা করব।’

শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিল্পের জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কৃষকের উপর গুলি চলবে না। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় দু’কোটি শিক্ষিত বেকার। কাজের অভাবে ভিন্‌রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন ৭০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। আদানি গোষ্ঠী আমাকে জানিয়েছিল, তাজপুরে রাজ্য সরকারের নিজস্ব এক একর জমিও ছিল না। ফলে সেখানে বন্দর তৈরি সম্ভব হয়নি। তবে সিঙ্গুরে আমরা কিছু একটা করবই। নামী বাণিজ্যিক ভারী গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে প্রাথমিক ভাবে কথাও হয়েছে। কিন্তু আমরা শুধু মৌ স্বাক্ষর করে লোকদেখানো চমক দিতে চাই না। আগের সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন করত। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আমরা সেই রাস্তায় হাঁটব না।’

জমি অধিগ্রহণ নীতি নিয়ে অতীত ও বর্তমানের ফারাক স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘আমরা একদিকে যেমন বাম আমলের মতো জমির জন্য কৃষকদের ওপর গুলি চালাতে পারব না, অন্যদিকে আবার বিগত তৃণমূল সরকারের মতো শিল্পপতিদেরও বলতে পারব না যে আপনারা নিজেদের জমি নিজেরাই জোগাড় করে নিন। জমি অধিগ্রহণ ও পরিকাঠামো তৈরিতে রাজ্য সরকার পুরোপুরি শিল্পপতিদের পাশে থাকবে।’বলে রাখা প্রয়োজন, গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিঙ্গুরে সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর সভার পাল্টা হিসেবে সিঙ্গুরের অদূরে সভা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে সিঙ্গুর কেন্দ্রে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রার্থী। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শিল্প মহলের নজর ছিল সিঙ্গুরের দিকে। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় আগেই জানিয়েছিলেন, সিঙ্গুর নিয়ে তাঁদের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেই সিঙ্গুরে নতুন করে শিল্পায়নের কথা জানা গেল।

Leave a Reply