চোরবাগানকাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ! সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ১৬৩ ধারা

Spread the love

চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার পরেই কড়া পদক্ষেপ করল লালবাজার। পরিস্থিতি যাতে নতুন করে উত্তপ্ত না হয়, তার জন্য সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জারি হল ১৬৩ ধারা। আগামী তিন দিন এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ। অন্য দিকে, দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে পুজো কমিটির সম্পাদক ও সহ-সভাপতি-সহ মোট সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই আধিকারিকও। মণ্ডপের নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং বাঁশের কাঠামো তৈরির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

চোরবাগান ঘিরে কড়া নজরদারি

লালবাজারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপ সংলগ্ন একাধিক রাস্তায় জমায়েত করা যাবে না। কলেজ স্ট্রিটের কলুটোলা স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল রোড পর্যন্ত অংশে এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের সংশ্লিষ্ট অংশেও জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

কলুটোলা স্ট্রিটের কলেজ স্ট্রিট থেকে সিআর অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ এবং ইডেন হাসপাতাল রোডের সিআর অ্যাভিনিউ থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত রাস্তাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। বউবাজার থানা এলাকার অন্তর্গত এই সমস্ত জায়গায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না। আগামী তিন দিন পরিস্থিতির উপর নজর রাখবে পুলিশ।

ঘটনার পর থেকেই চোরবাগান এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মণ্ডপের আশপাশে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই দিকেও নজর রাখছেন আধিকারিকেরা।

তদন্তে নেমে গ্রেপ্তার সাত

চোরবাগানের দুর্ঘটনার পরেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনার জন্য যাঁরা দায়ী, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তার পরেই গিরিশ পার্ক থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। ষড়যন্ত্র এবং অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

প্রথমে পুজো কমিটির কয়েক জন সদস্য-সহ একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। কী ভাবে মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, নিরাপত্তার ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করেন তাঁরা। সেই তদন্তের পরেই সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ধৃতদের নাম রাজকুমার সেওদা ওরফে রাজা, শান্তনু দুবে, বিপ্লব মুখোপাধ্যায়, কৌশিক সাহা, পিন্টু দে, সুমন চক্রবর্তী এবং রাজেশ পাল। রাজকুমার চোরবাগান পুজো কমিটির সম্পাদক ছিলেন। সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন শান্তনু দুবে। মণ্ডপের বাঁশের কাঠামো তৈরির দায়িত্বে ছিলেন বিপ্লব মুখোপাধ্যায়।

নজরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কৌশিক সাহা এবং পিন্টু দের দায়িত্ব ছিল ভিড় সামলানো ও ভিআইপি পাশ পরীক্ষা করা। অন্য দিকে, সুমন চক্রবর্তী এবং রাজেশ পাল একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার কর্তা। তাঁদেরও গ্রেপ্তার করেছে লালবাজার।

তদন্তকারীদের নজরে এখন মণ্ডপের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানোর ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা। কোনও গাফিলতির জেরেই বিপর্যয় ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চোরবাগানের ঘটনার পর শহরের অন্য পুজোমণ্ডপগুলির নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আপাতত তদন্তের পাশাপাশি চোরবাগান এলাকায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *