বর্তমানে বিজেপি-র দুঁদে নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে এনেছেন অনেকদিন আগেই। মাঝে মেয়েবেলা নামের একটি ধারাবাহিকে ও পরূর্তীতে দেবের রঘু ডাকাতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। জনসম্মুখে অভিনেত্রী যখনই আসেন, তখন নজর কাড়ে তাঁর সিঁথিতে থাকা সিঁদুর। ডিভোর্স হয়েছে বহু আগে। তবু কার নামের সিঁদুর সিঁথিতে দেন তিনি?
সিঁদুর পরা নিয়ে কী জানালেন রূপা?
এই নিয়ে সংবাদ প্রতিদিনকে রূপা জানান, ‘আমি তো বিধবা নই! আমি কেন সিঁদুর পরব না? আর আমি রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, বিধবা হয়ে গেলেও সিঁদুর পরতাম। আমি মা ভদ্রকালীর সিঁদুর পরি। বেশ করি সিঁদুর পরি। আমার ভালোলাগে সিঁদুর পরতে, তাই পরব। আমি এখানে (কপাল দেখিয়ে) সিঁদুর পরি, এখানেও (সিঁথি দেখিয়ে) পরি, ভদ্রকালীর সিঁদুর নিয়ে এসেছিলাম, সেটাই পরি।’
‘কাওকে জবাব দেব না আমি কার জন্য পরি, কেন পরি। আর বিধবা হলেই বা কেন সিঁদুর পরবে না, লাল টিপ পরবে না। আমি তো আমার মা-কে জোর করে লাল টিপ পরাতাম বাবা চলে যাওয়ার পরেও। কী সুন্দর লাগে মেয়েদের। আমি অত কেয়ার করি না, আমি সিঁদুর পরব, ব্যাস।’, আরও বলেন রূপা।
রূপার ডিভোর্স
১৯৯২ সালে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ধ্রুব মুখোপাধ্যায়কে বিয়ে করেছিলেন রূপা। কিন্তু শত চেষ্টাতেও বাঁচাতে পারেননি দাম্পত্য। এক সাক্ষাৎকারে এই নিয়ে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘আমার মনে হয়, একজন পুরুষের পক্ষে এক সেলিব্রেটিকে তাঁর স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করাটা খুবই কঠিন। এটা মেনে নেওয়ার জন্য একজনকে অত্যন্ত খোলা মনের মানুষ হতে হবে। আমি কোনওদিন সকাল ৯টার আগে কিংবা রাত ১০টার পরে শিডিউল নিইনি। শ্যুট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মেকআপ না তুলেই বাড়ি চলে আসতাম।’
রূপার গলায় ধরা পড়েছিল আফশোস। বলেছিলেন, ‘একজন মেয়ের পক্ষে তাঁর স্বামীকে খুশি রাখার জন্য যা যা করা সম্ভব আমি সবই করেছি। কলকাতায় ধ্রুবকে নিয় ঘর করার জন্য অভিনয়ও ছেড়ে দিয়েছিলাম। এত কিছু করেও বিয়েটা বাঁচাতে পারিনি।’

এমনকী, সেই সময় এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন রূপা যে নিজেকে শেষ করে দেওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন। তাও একবার নয়, তিন-তিনবার। ছেলের জন্মের আগে একবার, ছেলে হওয়ার পর দু’বার।
গায়ক দিব্যেন্দু-র সঙ্গে লিভ ইনেও ছিলেন রূপা
ডিভোর্সের পর বাঙালি গায়ক দিব্যেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন রূপা। দিব্যেন্দু রূপার চেয়ে ১৩ বছরের ছোট ছিলেন। মুম্বইতে রূপার ফ্ল্যাটেই তাঁরা লিভ ইন করতেন। প্রায় সাড়ে ৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর তাঁরা আলাদা হন।