ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি বাড়াতে বড়সড় প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে নয়াদিল্লি। ছ’টি অত্যাধুনিক আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান কেনার জন্য ইজরায়েলের সংস্থা ইজরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (আইএআই) সঙ্গে প্রায় ৮০০০ কোটি টাকার চুক্তি হতে পারে। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই বরাত পাওয়ার দৌড়ে কার্যত একমাত্র যোগ্য সংস্থা হিসাবে উঠে এসেছে আইএআই। রাশিয়া এবং ইউরোপের সংস্থাগুলির প্রস্তাব নির্ধারিত মূল্যায়নের শর্ত পূরণ করতে পারেনি বলে খবর। চুক্তি চূড়ান্ত হলে ভারতীয় সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের (হ্যাল) সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করবে আইএআই।
‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তির মূল্য ৯০৫.৭ মিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৮০০০ কোটি টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছ’টি ব্যবহৃত বোয়িং ৭৬৭ যাত্রীবাহী বিমান কিনে সেগুলিকে সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানে রূপান্তরিত করবে আইএআই। এই কাজের অন্তত ৩০ শতাংশ ভারতে করার শর্ত রয়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় হ্যালের মাধ্যমে বিমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, বৈদ্যুতিক সংযোগ, কাঠামোগত পরিবর্তন এবং প্রযুক্তি সংযুক্তির কাজ হতে পারে।
কেন প্রয়োজন এই বিমান?
যুদ্ধবিমানকে দীর্ঘ সময় আকাশে রাখার ক্ষেত্রে মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরার ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত একটি বিশেষ ধরনের ট্যাঙ্কার বিমান যুদ্ধবিমানের পাশে উড়ে গিয়ে নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ করে। এর ফলে যুদ্ধবিমানকে বার বার ঘাঁটিতে ফিরে আসতে হয় না। অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালানো এবং দীর্ঘক্ষণ আকাশে নজরদারি করাও সহজ হয়।
বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে রাশিয়ায় তৈরি ছ’টি ইলিউশিন আইএল-৭৮ ট্যাঙ্কার বিমান রয়েছে। ২০০৩ সালে প্রথম এই বিমানগুলি বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত পরিষেবা চালু রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনের তুলনায় সংখ্যাও কম। তাই দীর্ঘদিন ধরেই নতুন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান কেনার চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত।

নতুন পরিকল্পনায় বোয়িং ৭৬৭ বিমানগুলিকে আইএআইয়ের মাল্টি মিশন ট্যাঙ্কার ট্রান্সপোর্টে (এমএমটিটি) পরিণত করা হবে। এই বিমানগুলি শুধু আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী সেনা পরিবহণ, মালপত্র বহন এবং কৌশলগত বিমান পরিবহণের কাজেও ব্যবহার করা যাবে। রাফাল এবং সুখোই-৩০ এমকেআইয়ের মতো যুদ্ধবিমানকে দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর সুযোগ করে দেবে এই ব্যবস্থা।
কবে আসবে নতুন বিমান?
ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র এবং চুক্তির প্রক্রিয়া শেষ হলে ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিমানগুলি বায়ুসেনার হাতে আসতে পারে। তবে এখনও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা হয়নি। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত দরকষাকষি এবং সরকারি অনুমোদনের কয়েকটি ধাপ বাকি রয়েছে।
প্রায় দু’দশক ধরে নতুন ট্যাঙ্কার বিমান সংগ্রহের চেষ্টা করছে ভারত। একাধিক বার খরচ এবং প্রযুক্তিগত জটিলতায় সেই পরিকল্পনা পিছিয়েছে। ফলে আইএআইয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বায়ুসেনার দীর্ঘদিনের প্রয়োজন অনেকটাই মিটবে। বিশেষ করে চিন ও পাকিস্তান সীমান্তে দীর্ঘপাল্লার অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবে ভারতীয় বায়ুসেনা।